আল্লাহ কতৃক প্রদত্ত স্বাধীনতা এবং আমি যা করে চলেছি ।

” — বল , (এটা) তোমাদের প্রভুর নিকট থেকে প্রেরিত সত্য , যার ইচ্ছে সে বিশ্বাস করুক এবং যার ইচ্ছে সে সত্য প্রত্যাখ্যান করুক । নিশ্চয়ই আমরা জালেমদের জন্য প্রস্তত করে রেখেছি আগুন , যার পর্দাগুলো তাদেরকে ঘেরাও করে ফেলবে । যদি তারা সাহায্যের জন্য চীৎকার করে , তাদেরকে সাহায্য করা হবে গলিত তামার মত এক পানি দিয়ে , যা চেহারাগুলোকে পুড়িয়ে ফেলবে । অত্যন্ত খারাপ সেই পানীয় এবং অত্যন্ত খারাপ এক বিশ্রামের স্থান ——- ” ।
সুরা – কাহফ / ২৯ ।

” — নিশ্চয়ই আমরা তাকে পথ দেখিয়েছি , হয় সে কৃতজ্ঞ হইবে , নাহয় সে অকৃতজ্ঞ হইবে —- ” ।
সুরা – দাহর / ৩ ।

উপরে উল্লেখিত পবিত্র কোরআনের দুটি আয়াতে এই বিষয়টি খুবই পরিস্কার যে , ইহজীবনে সমগ্র মানবজাতিকে সর্বশক্তিমান আল্লাহ যথেষ্ট পরিমানে স্বাধীনতা প্রদান করেছেন ।
আল্লাহ কতৃক প্রদত্ত স্বাধীনতার বদৌলতে যে কোন মানুষ আল্লাহকে অস্বীকার করতে পারে । এমনকি আল্লাহ কতৃক প্রেরিত সত্য ধর্ম ইসলামকে আংশিক বা পুরোটাই গ্রহন অথবা প্রত্যাখ্যান করতে পারে ।

মহান আল্লাহ সমগ্র মানবজাতির সম্মুখে সত্য পথ তথা “সিরাতুল মুস্তাকীম” এবং “ঈবলীশের পথ” দুটোই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন ।
এখন কে কোন পথের অনুসারী বা শীয়া হবে সেটা যার যার ব্যক্তিগত অভিরুচী ।

পবিত্র কোরআনে এটাও বলে যে ,
” — ধর্ম সম্পর্কে কোন জোর-জবরদস্তি নাই । সত্য পথ ভ্রান্ত পথ হইতে সুস্পষ্ট হইয়াছে ——” ।
সুরা – বাকারা / ২৫৬ ।

পাশাপাশি সর্বশক্তিমান আল্লাহ “সিরাতুল মুস্তাকীম” এর পথে না চললে কিরকম শাস্তি দেবেন সেটাও পরিস্কারভাবে পূর্বেই বলে দিয়েছেন ।
এতে করে পরকালে গিয়ে কোন ওজর আপত্তি তোলার বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই ।

প্রিয় পাঠক ,
যে প্রসঙ্গটির প্রতি আপনার সদয় দৃষ্টি চাই সেদিকে চলুন , প্লীজ ।

আমি কারোর উপর বিষয়টি না নিয়ে নিজেকে দিয়েই আপনাকে যেগুলো বলতে চাই সেগুলো হল —–

“ – গ্রহন কর যা রাসুল তোমাদের দেয় এবং পরিত্যাগ কর যা সে তোমাদেরকে নিষেধ করে এবং আল্লাহ সম্পর্কে সতর্ক হও । নিশ্চয়ই আল্লাহ উপযুক্ত শাস্তি দানে অত্যন্ত কঠোর — ।“
সুরা – হাশর / ০৭ ।

মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) আমাকে দিয়ে গেলেন পবিত্র আহলে বাইতগন (আঃ) তথা গাদীরের পথ তথা “সিরাতুল মুস্তাকীম” ।
মহান আল্লাহ যাঁদের প্রতি নিয়ামত প্রদান করে অনুসরণ ও আনুগত্য করার আদেশ দিলেন “সিরাতুল মুস্তাকীম” তথা গাদীর এ খুমের পথকে ।

পক্ষান্তরে –
আমি অনুসরন ও আনুগত্য করছি আল্লাহ ও তাঁর সম্পূর্ন অনুমোদনহীন তথা ঈবলীশের পথকে !

মহান আল্লাহ যাঁদেরকে অভিভাবক , ওয়ালী , উলিল আমর এবং পুতঃপবিত্র আহলে বাইত বা ইমাম নির্বাচিত করে অনুসরণ ও আনুগত্য করার আদেশ দিলেন তথা বার ইমামীয়া পদ্বতিকে ।
পক্ষান্তরে –
বংশপরম্পরায় আমি অনুসরন ও আনুগত্য করে চলেছি বনু সকীফার গর্ভ থেকে সৃষ্ট খলীফা , আমীর ও ইমাম পদ্বতিকে !

মহান আল্লাহ্ যাঁদেরকে “সত্যবাদী” , “কিতাবে মুবিন” , “আহলুল জিকির” নির্বাচিত করে অনুসরন ও আনুগত্য করার আদেশ দিলেন তথা বার ইমামীয়া পদ্বতিকে ।
পক্ষান্তরে –
আমি অনুসরন ও আনুগত্য করছি বনু সকীফার গর্ভ থেকে সৃষ্ট সিদ্দিকী , ফারুকে আযম , ইমামে আযম , আমীরে কাতেবে ওহী কতৃক নির্ধারিত পদ্বতিকে !

পাঠক ,
আমি আরও ধৃষ্টতাপূর্ন যে কাজগুলি প্রত্যহ করে থাকি —

মহান আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত নামাজে যাঁদের ওপরে দরুদপাঠ করা ফরজ করেছেন ।
মহান আল্লাহ যাঁদেরকে জান্নাতের নেতা-নেত্রী বলে ঘোষণা করেছেন ।
মহান আল্লাহ ইমাম আলীর (আঃ) দরজা দিয়ে রাসুলের (সাঃ) জ্ঞানের শহরে প্রবেশ করতে আদেশ দিলেন ।
রাসূলের (সাঃ) বংশধর তথা হযরত ইমরান ওরফে আবু তালেবের (আঃ) বংশধরকে সমগ্র মানবজাতির ইমাম বা নেতা নির্বাচিত করলেন ।

প্রতি নামাজের শেষ বৈঠকে অর্থাৎ আলে রাসুলের (সাঃ) উপর দরুদ ও সালাম প্রেরন করে নামাজ শেষ করি ।
নামাজ শেষ করে আলে রাসুলের (সাঃ) শত্রুদেরকে রাঃআনহু বলি !

বোধকরি আমার মত চরম অকৃতজ্ঞ মুনাফিক নামধারী মুসলমানের জন্য সর্বশক্তিমান আল্লাহ প্রস্তত রেখেছেন জাহান্নামের প্রচন্ড তাপ সৃষ্টিকারী ভয়ংকর আগুন ।
যে আগুন তখন আমাকে বাঁচিয়ে রাখবে না আবার মেরেও ফেলবে না ।
ভয়াবহ আগুন থেকে যতবারই বের হতে চেষ্টা করব ততবারই ফেরেশতারা ধাক্কা দিয়ে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে ফেলে দেবে ।
কেননা ১৫০০ বছর পূর্বেই আল্লাহ সুস্পষ্ট ভাবে বলে দিয়েছেন যে – জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে মুনাফিকগন অবস্থান করবে ।

আমার মত চরম অকৃতজ্ঞ মুনাফিক মুসলমানের জন্য পবিত্র কোরআনের এই আয়াতটি যথেষ্ট —
” —– আর যে ব্যক্তি রাসুলের বিরোধিতা করবে তার কাছে সৎপথ প্রকাশিত হওয়ার পর এবং মুমিনদের পথ ছেড়ে অন্যপথ অনুসরন করবে , অবশ্যই আমি তাকে সেদিকে ফেরাব যেদিকে সে ফিরে যায় । আর তাকে জাহান্নামে জ্বালাব । আর তা কত নিকৃষ্ট আবাসস্থল —- ” ।
সুরা – নিসা / ১১৫ ।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ কতৃক প্রদত্ত বার ইমামের পথ পরিত্যাগ করে আমি আঁকড়ে ধরলাম ঈবলীশ কতৃক প্রদত্ত পথকে ।
ইহকালীন জীবনে আমি নাহয় প্রচন্ড জৌলুসের জীবন অতিবাহিত করে যাচ্ছি । কিন্ত মৃত্যুর পরে নিশ্চিতভাবে আমার জন্য জাহান্নামের ভয়াবহ আগুন অপেক্ষামান ।

প্রিয় পাঠক ,
বিলক্ষন জানি যে , আপনি আমার মত অকৃতজ্ঞ মুনাফিক নামধারী মুসলমান নন ।
আমার এই কথাগুলোতে একদম মন খারাপ করবেন না
আমি শুধু আমার মনের কথাগুলি খোলামনে শেয়ার করলাম ।
আমি শুধু আমার কৃত জঘন্য পাপ ও অন্যায়গুলি খোলামনে শেয়ার করলাম ।

ভাল ও সুস্থ থাকুন —

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 5 =