ঈয়াযীদ মোটেই দায়ী নন ।

পর্ব – ০৪ ।

নাটের গুরু ঈয়াযীদ মোটেই দায়ী নন !

ইদানীং অনেকেই বলে থাকেন যে , কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার জন্য ঈয়াযীদ ইবনে মূয়াবীয়া মোটেই দায়ী নন । কারন কারবালর ময়দানে ঈয়াযীদ উপস্থিত ছিল না ।

ওনারা এমনভাবে বলেন যে , ঈয়াযীদের অজ্ঞতাসারে কারবালা প্রান্তরে এতবড় হত্যাযজ্ঞ হয়ে গেল !

বেশ ভাল কথা ।

কথা বলার স্বাধীনতা সকলের আছে , হোক সে কথাটা খাঁটি সত্য অথবা ডাঁহা মিথ্যা ।

প্রিয় পাঠক ,

সঙ্গত কারনে এখানে শীয়াদের রেফারেন্স দেয়া যাচ্ছে না ।

আসুন দেখে নেই ।

সুন্নি ভাইদের বিখ্যাত ইতিহাসবিদগনের কিতাব কি বলে –

পর্ব – ০৪ ।

ইমাম হোসেনের (আঃ) হত্যায় ঈয়াযীদ আনন্দ ও দম্ভ প্রকাশ করেছিল ।

ইবনে আসাম , আবুল ফারাজ ইসফাহানী এবং ইবনে কাসির বর্ননা করেছেন যে , ইমাম হোসেনের (আঃ) কর্তিত পবিত্র মস্তক ঈয়াযীদের নিকট নেয়া হলে সে খুব আনন্দিত হয়ে ইবনে যেবারার কবিতাটি আবৃত্তি করে তার মনের ভাব প্রকাশ করেছিল ।

“বনি হাশিম রাজত্ব নিয়ে খেলা করেছে । প্রকৃত সত্য হল যে , কোন ঐশী বার্তা আসে নাই , আর কোন প্রকার ওহী অবর্তীন হয় নাই । আমি যদি বনি আহমেদ অর্থাৎ মুহাম্মাদের বংশধরদের থেকে যা সে করেছিল তার চরম প্রতিশোধ না নেই তবে আমি খিনদিফের সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত হই । নিশ্চয় আমরা তাদের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হত্যা করেছি এবং বদর যুদ্বের প্রতিশোধ নিয়েছি” ।

এই কবিতাটিতে ঈয়াযীদ আমাদের প্রানপ্রিয় রাসুলের (সাঃ) নবুয়তকে পরিস্কারভাবে অস্বীকার করেছে এবং ইমাম হোসেনের (আঃ) হত্যাকে বদরের যুদ্বের প্রতিশোধ হিসাবে উল্লেখ করেছে ।

এভাবে ঈয়াযীদ ইবনে মূয়াবীয়া তার অন্তরের বিশ্বাসকে ব্যক্ত করেছে ।

ইবনে আসির বর্ননা করেছেন যে , ইমাম হোসেনের (আঃ) শাহাদাতের পর তাঁর পবিত্র মস্তক ঈয়াযীদের নিকট প্রেরিত হলে সে তার লাঠি দিয়ে তাঁর পবিত্র মস্তকে আঘাত করে কবিতা পাঠ করেছিল ।

এই ঘটনায় এটাই প্রমান হয় যে , ইমাম হোসেনের (আঃ) হত্যা ঈয়াযীদকে সাংঘাতিক সন্তষ্ট করেছিল বিধায় সে তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে পবিত্র ঠোঁট ও দাঁতে আঘাত করে দম্ভের সাথে কবিতা আবৃত্তি করেছিল ।

এ প্রসঙ্গে আল্লামা সুয়ূতী লিখেছেন যে , ইমাম হোসেন (আঃ) ও তাঁর বংশের লোকদের হত্যার পর উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ তাঁদের কর্তিত মস্তকগুলোকে সিরিয়ায় প্রেরন করলে ঈয়াযীদ ইবনে মূয়াবীয়া প্রথমে খুবই আনন্দিত হয় ।

কিন্ত ধীরে ধীরে যখন মুসলমানদের মধ্যে অসন্তোষ ও ঘৃনা বাড়তে থাকে তখন জনবিদ্রোহর ভয় ঈয়াযীদ বাহ্যিকভাবে লোক দেখানো অনুশোচনা প্রকাশ করে ।

সুতরাং ঈয়াযীদের প্রতি সকল মানুষের ক্ষুদ্ব হওয়ার অধিকার রয়েছে ।

সূত্র – ইবনে আসাম , আল ফুতুহ , ৩য় খন্ড , ৫ম অধ্যায় , পৃ – ২৪১ / আল ইসফাহানী , মাকাতিলুল তালবিয়িন , পৃ – ১২০ / ইবনে কাসির , ৮ম খন্ড , পৃ – ২৪৬ / ইবনে জাওযী , তাযকিরাতুল খাওয়াছ , পৃ – ২৩৫ / ইবনে আসির , আল কামিল ফিত তারিখ , ৩য় খন্ড , পৃ – ২৯৮ / তারিখুল খোলাফা , পৃ – ২০৮ ।

ইনশা আল্লাহ , আগামীকাল থাকছে ,

পর্ব – ০৫ ।

ইমাম হোসেনকে (আঃ) হত্যার পর উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদকে ঈয়াযীদ পুরস্কৃত করেছিল ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 + fourteen =