নাটের গুরু ঈয়াযীদ মোটেই দায়ী নন !
ইদানীং অনেকেই বলে থাকেন যে , কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার জন্য ঈয়াযীদ ইবনে মূয়াবীয়া মোটেই দায়ী নন । কারন কারবালর ময়দানে ঈয়াযীদ উপস্থিত ছিল না ।
ওনারা এমনভাবে বলেন যে , ঈয়াযীদের অজ্ঞতাসারে কারবালা প্রান্তরে এতবড় হত্যাযজ্ঞ হয়ে গেল !
বেশ ভাল কথা ।
কথা বলার স্বাধীনতা সকলের আছে , হোক সে কথাটা খাঁটি সত্য অথবা ডাঁহা মিথ্যা ।
প্রিয় পাঠক ,
সঙ্গত কারনে এখানে শীয়াদের রেফারেন্স দেয়া যাচ্ছে না ।
আসুন দেখে নেই ।
সুন্নি ভাইদের বিখ্যাত ইতিহাসবিদগনের কিতাব কি বলে –
পর্ব – ০২ ।
ইমাম হোসেনের (আঃ) উক্তি – “আমাকে তারা হত্যা করবেই” ।
তাবারী বর্ননা করছেন যে , ইমাম হোসেন (আঃ) মক্কাতে এক জনসমাবেশে লোকদের উদ্দেশ্যে বলছেন যে , “তোমরা কি জান , ইবনে যুবাইর কি বলছে ?”
লোকেরা বলল , “না , আমরা জানি না । আল্লাহ আমাদের আপনার জন্য উৎসর্গিত করুন” ।
ইমাম হোসেন (আঃ) বললেন , “ইবনে যুবাইর আমাকে এ মসজিদে অবস্থানের কথা বলেছে এবং দাবি করেছে যে , আমার জন্য সৈন্য সংগ্রহ করবে । কিন্ত আমি আল্লাহর শপথ করে তোমাদের বলছি , আমার জন্য মক্কার অভ্যন্তরে নিহত হওয়ার চেয়ে মক্কার বাহিরে নিহত হওয়া অধিক শ্রেয় । আল্লাহর শপথ , যদি আমি আত্মগোপন করি এবং কোন পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় গ্রহন করি , তবু তারা আমাকে খুঁজে বের না করা পর্যন্ত বিশ্রাম গ্রহন করবে না এবং তারা আমার সাথে তাই করবে যা তারা সিদ্বান্ত নিয়েছে” ।
এই বিষয়গুলো থেকে খুব পরিস্কার যে , বনি উমাইয়াদের তীব্র বিদ্বেষ ও তাঁকে হত্যা করার বিষয়টি সম্পর্কে ইমাম হোসেন (আঃ) নিজে সম্পূর্নরুপে অবহিত ছিলেন ।
ঈয়াযীদ ইবনে মূয়াবীয়া ইমাম হোসেনকে (আঃ) হত্যার পরিস্কার নির্দেশ দিয়েছিল ।
ইয়াকুবী বর্ননা করেছেন , ইমাম হোসেন (আঃ) ইরাকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন – এই খবরটি জানতে পেরে কঠোর ও নির্মম স্বভাবের উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদকে কুফার গর্ভনর হিসাবে নিযুক্ত করে ঈয়াযীদ ইবনে মূয়াবীয়া এবং তাকে এই মর্মে বাদশাহী ফরমান জারী করে যে , “আমার নিকট খবর আছে যে , কুফার লোকরা হোসেনকে ইরাকে আসার জন্য আমন্ত্রন জানিয়েছে । আমি নিশ্চিত যে , হোসেন ঐ আমন্ত্রন গ্রহন করে কুফার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে । এখন তোমার প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে , হোসেনকে হত্যা করা । আর যদি তুমি তা না কর তবে আমি তোমাকে তোমার মৃত পূর্বপুরুষদের নিকট অতি দ্রুত পাঠিয়ে দেব । সুতরাং , সাবধান ! এ সুযোগকে হাতছাড়া কর না ।”
এ প্রসঙ্গে ইবনে আসাম বর্ননা করেছেন যে , হুর ইবনে ইয়াযীদ রিয়াহি , উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদকে পত্র লিখে পাঠায় যে , সে ইমাম হোসেনকে কারবালাতে অবরুদ্ব করেছে । এখন তার করনীয় কর্তব্য কি ?
ইবনে যিয়াদ জবাবে লিখে যে , “আমীরুল মুমিনীন ঈয়াযীদ ইবনে মূয়াবীয়া আমাকে এই আদেশ দিয়েছেন যে , হোসেনকে হত্যার নির্দেশ পালিত না হলে আমার সাথে খুব কঠোর আচরন করা হবে এমনকি আমাকে হত্যা করতেও কুন্ঠাবোধ করবেন না” ।
এই ঐতিহাসিক বর্ননাগুলো থেকে এটা খুব পরিস্কার যে , ইমাম হোসেনকে (আঃ) হত্যার নির্দেশ স্বয়ং ঈয়াযীদ ইবনে মূয়াবীয়া তার নিয়োগকৃত গর্ভনর ইবনে যিয়াদকে প্রদান করেছিল । এমনকি হত্যার নির্দেশ বাস্তবায়িত না হলে ইবনে যিয়াদকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল ।
সূত্র – তারিখে তাবারী , ৪র্থ খন্ড , পৃ – ২৮৯ / ইবনে আসির , আল কামিল ফিত তারিখ , ৩য় খন্ড , পৃ – ২৭৬ / তারিখে ইয়াকুবী , ২য় খন্ড , পৃ – ২৪২ / মুখতাসারে তারিখে দামেশক , ২৮ তম খন্ড , পৃ – ১৯ / ইবনে আসাম , আল ফুতুহ , ৩য় খন্ড , ৫ম অধ্যায় , পৃ – ১৫০ / আল খারেযমী , মাকতালুল হুসাইন , ১ম খন্ড , পৃ – ১৪০ ।
২য় পর্বের সমাপ্তি ।
ইনশা আল্লাহ , আগামীকাল থাকছে ,
পর্ব – ০৩ ।
উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ ইমাম হোসেনের (আঃ) বিষয় নিজে থেকে কখনই কোন সিদ্বান্ত নেয় নাই ।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − seven =