একটি আধ্যাত্মিক সফর
মদীনা থেকে কারবালা ।
পর্ব – ০৫ ।

লেখাটি শুরুর পূর্বে দুটি কথা পাঠকদের উদ্দেশ্য বিনীত নিবেদন এই যে ,
আমি সহ আমরা অনেকেই কারবালা ঘটনার পূর্নাঙ্গ সঠিক ইতিহাস জানি না ।

তবে কথা দিলাম যে ,
পর্বগুলি ধৈর্য সহকারে পড়ুন , অনেক অজানা ঘটনা জানতে পারবেন , ইনশা আল্লাহ ।

বিশেষ করে ইমাম হোসেন (আঃ) কবে কোন তারিখে সংগী সাথী এবং পরিবার পরিজন নিয়ে ইরাকের কুফা নগরীর উদ্দেশ্যে প্রিয় জন্মভূমি রা কিভাবে কারবালা নামক স্থানে এনে চর্তুদিক থেকে ঘেরাও করে ফেলেছিল । ওনারা তখন না পারছিলেন সামনে অগ্রসর হতে , না পারছিলেন অন্য কোথাও চলে যেতে ।
শর্ত দেওয়া হয়েছিল – হয় ঈয়াযীদের প্রতি আনুগত্য বা বাইয়াত গ্রহন কর নতুবা মৃত্যুকে বেছে নাও !

যাইহোক ,
এই লেখার উদ্দেশ্য হল যে , কুফা নগরীতে যাওয়ার জন্য ইমাম হোসেন (আঃ) তার সংগী সাথী এবং পরিবার পরিজন নিয়ে ২৮শে রজব ৬০ হিজরীতে মদীনা ত্যাগ করেন । ওনাদের যখন কারাবাল নামক স্থানে এনে চর্তুদিক থেকে ঘেরাও করে ফেলা হল সেদিনটি ছিল ০৩রা মহরম ৬১ হিজরী ।
দীর্ঘ এই সফরে ইমাম হোসেন (আঃ) এর কাফেলা কোন কোন এলাকা অতিক্রম করেছিলেন এবং ঐ সকল এলাকাতে সংঘটত বিশেষ বিশেষ ঘটনা সমূহ এই লেখাতে সংক্ষিপ্ত ভাবে বর্ননা কর হল ।

লেখাটি অত্যন্ত দীর্ঘ হওয়াতে বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক পর্বে দেয়া হল ।
আজ থাকছে পঞ্চম পর্ব ।

কারবালা –
শুক্রবার , ৩রা মহরম , ৬১ হিজরীতে ওমর বিন সাআদ চার হাজার সৈন্য সহ কারবালাতে উপস্থিত হয় ।

কারবালা –
শনিবার , ৪ঠা মহরম , ৬১ হিজরীতে উবাইদুল্লাহ কুফার মসজিদে তার বক্তব্যে বলে ,
হে কুফাবাসী , তোমরা আবু সুফিয়ানের বংশধরদেরকে চিনতে পেরেছ । তারা যা চায় তা করতে পারে !!
ঈয়াযীদকে চিনতে পেরেছ সে চাইলে তোমাদেরকে ক্ষমাও করতে পারে । সে আমাকে নির্দেশ দিয়েছে আমি তোমাদেরকে অর্থ দান করি যেন তোমরা হুসাইনের সাথে যুদ্ধ করতে যাও ।
– শীমার চার হাজার প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সৈন্য বাহিনী নিয়ে ।
– ঈয়াযীদদ বিন রেকাব দুই হাজার সৈন্য নিয়ে ।
– হাসিন বিন নুমাইর চার হাজার সৈন্য নিয়ে ।
– মাযায়ের বিন রাহিয়ে চার হাজার সৈন্য নিয়ে ।
– নাসর বিন হারসা দুই হাজার সৈন্য নিয়ে । কারবালার উদ্দেশ্যে রওনা হয় ।

কারবালা –
রবিবার , ৫ই মহরম , ৬১ হিজরীতে কুফা শহরে বিভিন্ন স্থান থেকে ওমর বিন সাআদের সৈন্য দলে যোগ দেয়ার জন্য প্রচুর পরিমানে লোকেরা জমা হতে থাকে ।
এক পর্যায় ইমাম হোসেন (আঃ) এর বিরুদ্বে ঈয়াযীদ বাহিনীর প্রায় ত্রিশ হাজারের মত প্রশিক্ষিত যোদ্বা জমায়েত হয় ।
উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদ কারবালার পথে কিছু লোককে তদারকির দ্বায়িত্ব দিয়ে রাখে যেন কেউ ইমাম হুসাইন (আঃ) এর সাহায্যের জন্য কারবালাতে যেতে না পারে ।

কারবালা –
সোমবার , ৬ই মহরম , ৬১ হিজরীতে ওমরে সাআদ উবাইদুল্লাহকে চিঠি লিখে যে এবং সাবধানে থাকতে বলে ।
হাবীব ইবনে মাযাহির ইমাম (আঃ) এর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে বণী আসাদ গোত্রের কাছে যায় । যারা কারবালার কাছেই জীবন যাপন করত । তাদের কাছে সাহায্যে চাইলে প্রায় ৯০ জন ইমাম (আঃ) সাহায্যে করতে প্রস্তুত হয ।
কিন্তু পথিমধ্যে তারা ওমরে সাআদের সৈন্য দলের সম্মুখিন হয় । শত্রুরা তাদের উপরে হামলা করে এবং তারা বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যায় ।
হাবীব ইবনে মাযাহির উক্ত ঘটনা সম্পর্কে ইমাম (আঃ) কে অবগত করলে তিনি বলেন
(لا حَولَ وَلا قُوَّةَ اِلاّ بِاللهِ)

ইমাম হুসাইন (আঃ) তাঁর ভাই মোহাম্মাদ ইবনে হানাফিয়া এবং বণী হাশিমদেরকে চিঠি লিখেন ।
ইমাম বাহিনীর ডান দিকের সৈন্য বাহিনীর প্রধান ছিলেন যোহাইর বিন কাইন , বাম দিকের সৈন্য বাহিনীর প্রধান ছিলেন হাবীব ইবনে মাযাহির এবং পতাকাবাহি ছিলেন হযরত আব্বাস (আঃ) ।
যদিও ঈয়াযীদী সৈন্য বাহিনী ইমাম হোসেন (আঃ) এর তাবুর কাছাকাছি ছিল ।
কিন্তু ইমাম হোসেন (আঃ) তাদের উপরে আগে হামলা করেননি ।
তিনি চেয়েছিলেন যে হামলা যেন আগে তাদের পক্ষ থেকে হোক ।

পঞ্চম পর্বের এখানেই সমাপ্তি ।
আগামী ষষ্ঠ পর্বে থাকছে ৭ই কারবালা নামক স্থানের ঘটনা সমূহ , ইনশা আল্লাহ ।

 

ততক্ষনে ভাল ও সুস্থ থাকুন ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 + eight =