একটি বিশাল বড় ভুল ধারনার চিরস্থায়ী কবর ।

মহাশোকের মাস মহরম –

আশুরার দিন অর্থাৎ দশই মহরম বিকেল বেলা ভারতীয় উপমহাদেশে বিশেষ করে ভারত , পাকিস্তান ও বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক মুসলিম লোক ঢোল , ড্রাম , ঝুনঝুনি , ঘুঙ্গুর , শরীরে লাল সবুজ রঙের বিভিন্ন ফিতা লাগিয়ে উদভ্রান্তের ন্যায় চীৎকার চেঁচামেচি এবং দৌড়াদৌড়ি করে থাকেন ।

সেইসাথে ঢোল , ড্রাম ও বাঁশির বিকট আওয়াজে কানে তালা লাগার উপক্রম হয় ।

ইদানীং মুখে কেরোসিন নিয়ে আগুনের উপর ছুঁড়ে মারে । এতে তৎক্ষনাৎ বিশাল অগ্নিস্ফুলিঙ্গের সৃষ্টি হয় ।

সেই সাথে চলে লাঠি খেলা ও নকল তলোয়ার দিয়ে যুদ্ব যুদ্ব খেলা ।

আরও আছে বিশাল বিশাল সাইজের রঙের তাজিয়া ।

একদল শরীর হেলে দুলে লাঠি ও তলোয়ার খেলায় রত ।

একদল বিকট আওয়াজ করে ঢোল , ড্রাম ও ভেঁপু বাজাতে ব্যস্ত ।

একদল মুখে কেরোসিন মেরে আগুনের ফুলকি বানাচ্ছে ।

একদল হাতে , পায়ে , পিঠে বুকে লাল সবুজ ফিতা বেঁধে দৌড়াদৌড়ি করছে ।

একদল পায়ে ঘুঙ্গুর পড়ে উরাধুরা লম্ফঝম্ফ করছে ।

সব কিছু মিলিয়ে বিকট আওয়াজ , হৈ চৈ —

অর্থাৎ মার মার কাট কাট অবস্থা ।

পুরো রাস্তা বন্ধ করে বিকেল থেকে সন্ধা পর্যন্ত প্রায় তিন থেকে চার ঘন্টা নগরবাসীকে এই বিশাল তান্ডব দেখতে হয় ।

বিদেশী নাগরিক কেউ এই দৃশ্য দেখলে নির্ঘাত বলবে যে , বলিউডের দাবাং-৩ সিনেমার সূটিং চলছে !

সুপ্রিয় পাঠক ,

সার সংক্ষেপে ছোটবেলা থেকে আমরা সকলে প্রতি দশই মহরম বিকেল বেলায় এই দৃশ্য দেখে আসছি ।

আচ্ছা বলুন তো ?

আমাদের কারও অতি প্রিয়জনের মৃত্যুবাষিকীতে আমরা কি এই ঢোল , ড্রাম নিয়ে নাচুন কুদন করতে পারি ?

নবীজীর (সাঃ) প্রানপ্রিয় নাতি ইমাম হোসেনকে (আঃ) এই দিনে ৭২ জন সহ প্রত্যেককে জবাই করল ।

এই দুঃখের স্মরনে ভাবগম্ভীর পরিবেশে প্রকাশ্য শোক মিছিল , মাতম , দুঃখের গান , আযাদারী , ঐ দিনের ঘটনা বর্ননা সম্বলিত লিফলেট বিলি ইত্যাদি করাটাই যৌক্তিক ।

কেননা ছয় মাসের শিশু , স্ত্রী , পুত্র , কন্যা , বোন , ভাতিজা , ভাই ও আরও অনেক মহিলা , শিশু ইত্যাদি নিয়ে ইমাম হোসেন (আঃ) কোন যুদ্ব যাত্রা করেছিলেন না ।

তাহলে এত করুন মর্মান্তিক ঘটনার স্মরনে এই ঢোল , ড্রাম , ভেঁপু , কেরোসিন আগুন , লাঠি-তলোয়ার খেলা , ঘুঙ্গুর পড়ে নাচন কোদন ইত্যাদি এইগুলি আদৌ কি কোন ভয়াবহ নির্মম শোক প্রকাশের মাধ্যম হতে পারে ?

এই রকম তান্ডব নৃ্ত্য করবে ঈয়াযিদী বাহিনী । কারন ঈয়াযিদী বাহিনীর মতে – ওরা ঐদিন বিজয়ী হয়েছে ।

যাইহোক , মারাত্মক ঘৃনা করতাম শীয়াদেরকে । কারন ছোটবেলা থেকে জেনে আসছি যে , বিকালের এই তান্ডবলীলা করে শীয়ারা ।

পাঠক ,

চরম সত্যটা জানার পর লজ্জায় নিজের মাথা ছোট হয়ে গেছে ।

কারন এই উল্লাস তান্ডবনৃত্য করে থাকেন আমাদেরই সুন্নি মাযহাবের কিছু অশিক্ষিত মূর্খের দল ।

পক্ষান্তরে , আরও জানলাম যে , প্রতি দশই মহরমের সকাল বেলা ভাবগম্ভীর পরিবেশে শোকের কাল রঙের পোষাক পড়ে পুরুষ মহিলা আলাদা কাতারে সারিবদ্বভাবে ধীরে খালি পায়ে বুক চাপড়িয়ে , দুঃখের ঘটনার কথামালা সাজিয়ে শোকের গান গায় ।

প্রকাশ্য শোকের মিছিলগুলো থেকে ভেসে আসে ঐদিনের ঘটে যাওয়া ইতিহাসের কথাগুলো ।

সেই সাথে মাওলানাদের কোরআন ও হাদিসের বয়ান চলতে থাকে ।

পথচারীদের বিনামূল্যে ঐ দিনের ঘটনা সম্বলিত লিফলেট বিলি করা হয় ।

সামগ্রিক ভাবে এই দলটি প্রতি আশুরার দিনের সকালে শহরবাসিক পুনরায় মনে করিয়ে দেয় কারবালা মর্মান্তিক ঘটনাকে ।

এতে না সৃষ্টি হয় কোন শব্দ দূষন , না সৃষ্টি হয় কোন তান্ডব উল্লাস ।

ভাবুন তো , আমরা কত ভাবগম্ভীর পরিবেশে একুশের ভাষা শহীদদের স্মরনে শোক মিছিল করি ।

আমরা কি কখনও লাঠি , ঢোল , ড্রাম , ঘুঙ্গুর , টিনের তলোয়ার , কেরোসিন আগুন ইত্যাদি নিয়ে কোন শোক মিছিল করি ?

যাইহোক , মূল কথাটি হচ্ছে যে , আশুরার দিন অর্থাৎ দশই মহরম বিকেল বেলায় যে উল্লাস তান্ডব নৃত্য হয় সেটার সাথে বার ইমামীয়া শীয়াদের সাথে বিন্দুমাত্র কোন সম্পর্ক নেই ।

দুঃখজনক হলেও এটাই সত্য যে , এই তান্ডব লীলাটি করে থাকেন আমাদেরই সুন্নি ভাইদের একাংশ !

কারবালার দুঃখজনক ঘটনা কিন্ত শীয়াদের একক কোন বিষয় নয় ।

রাসুলকে (সাঃ) যে মুসলমান অন্তর দিয়ে ভালবাসবে সেই মুসলমান জীবনে কখনই কারবালাকে ভুলতে পারে না এবং আমৃত্যু ভুলতে পারবেও না ।

অবশ্য মুনাফিক ও হারামজাদা মুসলমানদের জন্য এই কথাটি মোটেই প্রযোজ্য নয় ।

কারন ইদানীং অনেক বিশাল পন্ডিৎ কুলাঙ্গার ঈয়াযীদে প্রকাশ্যে রাঃআনহু বলে ঘোষনা দিচ্ছে ।

এখন বুঝতে কষ্ট হয় না যে , মহান আল্লাহ কেন ও কাদের জন্য সুরা মুনাফেকুন নাজিল করেছেন ।

আসুন সকলে মিলে বলি ।

ঈয়াযীদিয়াত মুর্দাবাদ ,

হোসেনিয়াত জিন্দাবাদ ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 + 16 =