Original 100% pure নিকৃষ্ট উম্মত ।

Original 100% pure কাফের মুশরিকগন শত চেষ্টা করেও হযরত ইমরান ওরফে আবু তালিবকে (আঃ) দমন বা নিয়ন্ত্রন করতে পারল না ।
দিনের পর দিন হযরত আবু তালেবের (আঃ) ক্লান্তহীন পরিশ্রমের বদৌলতে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) তাঁর ইসলামের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকলেন ।

আল্লাহর রাসুলকে (সাঃ) এই ধরনের সাহায্য সহযোগিতা দেওয়া একমাত্র পাক্কা ঈমানদার মুমিন ব্যক্তি ছাড়া একদমই অসম্ভব ।
এই ছোট্ট সহজ সমীকরনটি তৎকালীন কাফের মুশরিক মূর্তি পূজারী সম্পদ্রায় বিলক্ষন বুঝেছিল যে , হযরত ইমরান ওরফে আবু তালিব (আঃ) একজন পাক্কা ঈমানদার মুমিন ব্যক্তি ।

এহেন অবস্থায় হযরত আবু তালেবকে (আঃ) চরম শাস্তি দেবার জন্য তৎকালীন কাফের মুশরিক দলপতিগনের ঐক্যমতের ভিত্তিতে আবু তালেবের (আঃ) পরিবারকে সম্পূর্ন একঘরে করে দেওয়া হল ।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরন —
ইতিহাস থেকে প্রমানিত যে , হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যখন নবুয়াত ঘোষণা করলেন তখন মক্কার কোরায়েশ দলপতিগন বনী হাশিম গোত্রকে বয়কট অর্থাৎ সম্পূর্ন একঘরে করে দিল ।
বাধ্য হয়ে তখন হযরত ইমরান ওরফে আবু তালিব (আঃ) সমগ্র গোত্রকে মক্কার অদূরে পাহাড়ের পাদদেেশে একটি স্থানে নিয়ে গেলেন , যা তার নিজস্ব সম্পত্তি ছিল ।
এবং ইতিহাসে সেই স্থানের নামকরন হয়েছে “শেব-এ আবু তালিব” ।
যেখানে তাঁরা তিন বছর পর্যন্ত কল্পনাতীত কষ্ট-কাঠিন্ন ও দূর্ভোগ সহ্য করেছেন ।
মক্কার সকল কুরায়শরা একটি লিখিত সিদ্ধান্ত গ্রহনের জন্য সম্মেলন আহবান করে । যেখানে তারা সিদ্ধান্ত গ্রহন করে যে , তারা বনু হাশিম ও বনু আব্দুল মোতালেবের সাথে নিজেদের ছেলে-মেয়েদের বিবাহ দিবে না এবং তাদের সাথে কোন প্রকার ক্রয়-বিক্রয় করবে না ।
তারা এ ব্যাপারে একটি লিখিত অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়ে পরস্পর কসম করেছিল যে , তারা উক্ত চুক্তিকে কঠোরভাবে মেনে চলবে ।
তারপর তারা উক্ত চুক্তি পত্রটি কাবা গৃহের অভ্যন্তরে ঝুলিয়ে রাখে যাতে উক্ত শর্তাবলীকে পালনের ক্ষেত্রে তারা পরস্পর আরও অধিক ব্রতী হয় ।

কুরায়েশরা যখন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল তখন সমস্ত বনু হাশিম এবং বনু আব্দুল মোতালেব হযরত আবু তালিবের (আঃ) সাথে মিলিত হয়ে তারই একটি উপত্যকায় গিয়ে অবস্থান নেন ।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে , আবু লাবাহ আব্দ আর উজ্জা বিন আব্দুল মুত্তালিব বনু হাশিমকে ত্যাগ করে আবু তালিবের বিপক্ষে কুরায়েশদের সাথে যোগ দিয়েছিল ।
উক্ত চুক্তির কার্যকারিতা তিন বছর পর্যন্ত বলবৎ ছিল । যতদিন উক্ত দুই গোত্র পরস্পর বিচ্ছিন্ন ছিল ততদিনে “শেব-এ আবু তালেব” -এ অবস্থানকারীদের নিকট কোন খাদ্য-দ্রব্য অথবা সাহায্য পৌছাতে দেয়া হত না । তবে আত্মীয়তার কারনে কুরায়েশের কিছু শুভাকাঙ্খী খুবই কঠোর গোপনীয়তার সাথে কিছু সাহায্য করত ।
সূত্র – তারিখে তাবারী , খন্ড – ৬ , পৃষ্ঠা – ৮১ , ইংরেজী অনুবাদ ডব্লিউ মন্টগুমরী ও এম ভি ম্যাডোনাল্ড ।

পাঠক ,
এই প্রসঙ্গে এই প্রশ্নটি না করে পারছি না যে , মহাদুর্যোগপূর্ন কঠিন বিপদের দিনগুলোতে অতি সম্মানীত সাহাবী হযরত আবু বকর এবং হযরত ওমর তখন কোথায় ছিলেন ?
ওনারা তো মক্কাতেই ছিলেন এবং সবই তো জানতেন !
তাহলে তখন তারা রাসুলকে (সাঃ) কেন সাহায্য করেন নাই ?

এমন কোন প্রমান আছে কি যে , সেই কঠিন দিনগুলিতে তারা রাসুলকে (সাঃ) কোন প্রকার সাহায্য সহযোগীতা করেছে । বিশেষ করে খাদ্য-দ্রব্য ইত্যাদি সরবরাহ করেছিলেন ?
যদিও তারা ভাল করেই অবগত ছিলেন যে , কুরায়েশরা বনী হাশিমের প্রতি সমস্ত রকমের খাদ্য-দ্রব্য এবং লেন-দেনকে বয়কট করেছে !

মহা সংকটময় সময় ঐ পরিবারটির সাথে উঠাবসা , আর্থিক ব্যবসায়ীক , পারিবারিক , খাদ্য আদান প্রদান সহ সকল ধরনের সম্পর্ক সম্পূর্ন বিছিন্ন করে দেওয়া হল । দীর্ঘ তিন বছর চলেছিল অসহনীয় , নির্মম নিষ্ঠুর সেই বয়কটের দিনগুলো এবং রাতগুলো । পাহাড়ের লতাপাতা সিদ্ব করে খেতে হয়েছিল তখন । প্রায় প্রতি রাতে নবীজীর (সাঃ) সাথে আলীর (আঃ) বিছানা বদল করতে হত । কেননা তখন নবীজীর (সাঃ) প্রান নিরাপদ ছিল না ।

অসহনীয় সেই কঠিন দিনগুলোতে অসহায় পরিবারটির প্রতি জলীল কদর নামকরা বিখ্যাত এবং “আশারা মোবাশশারা” সনদ পাওয়া প্রখ্যাত সাহাবাগনের পক্ষ থেকে বিন্দুমাত্র সাহায্য সহযোগিতার কথা ইতিহাসে পাওয়া যায় না ।

প্রিয় পাঠক ,
লেখাটির মূল প্রসঙ্গে আসুন ।
হযরত ইমরান ওরফে আবু তালিব (আঃ) যদি কাফের মুশরিক হতেন তাহলে তো তৎকালীন কাফের সম্প্রদায় আবু তালিবকে (আঃ) সাদরে স্বাগতম জানাত ।
এবং আবু তালেব (আঃ) তাঁর ভাতিজা মুহাম্মাদকে (সাঃ) কাফের মুশরিকদের হাতে তুলে দিয়ে নিশ্চিত মনে মক্কা মদীনাতে ব্যবসা বানিজ্য চালিয়ে যেতেন ।
হযরত ইমরান ওরফে আবু তালিব (আঃ) যদি কাফের মুশরিক হতেন তাহলে তো তৎকালীন কাফের সম্প্রদায় আবু তালিবের (আঃ) পরিবারকে একঘরে করত না !

এই সহজ বিষয়টি বর্তমানে নামধারী Original 100% pure মুসলিমের মগজে খেলে না ।
এরা উল্লসিত মনে প্রচার করে বেড়ায় যে , মৃত্যুকালীন সময় কলেমা পড়ে নাই বিধায় হযরত আবু তালেব (আঃ) একজন কাফের হিসাবে আগুনের জুতা পড়িয়া পরকালে দিন কাটাইবেন !
এই হাদিসটির বর্ননকারী হল আবু জেহেল ।
কতিপয় নামধারী মুসলমান আবু জেহেলের বর্ননাকৃত হাদিসটি মনে প্রানে বিশ্বাস করে বটে !

সেজন্যই বলছি Original 100% pure কাফের মুশরিক মূর্তি পূজারীগন বিলক্ষন বুঝতে পেরেছিল যে , হযরত ইমরান ওরফে আবু তালিব (আঃ) একজন পাক্কা ঈমানদার মুমিন ব্যক্তি ।
পক্ষান্তরে , কতিপয় নামধারী Original 100% pure মুসলমানের মগজে এই বিষয়টি প্রবেশ করিল না ।

এই জাতীয় Original 100% pure নিকৃষ্ট উম্মতের জন্য পবিত্র কোরনের এই আয়াতটি যথেষ্ট ।

” — যাদের উপর তাওরাতের দায়িত্বভার অর্পন করা হয়েছিল , অতঃপর তারা তা বহন করে নাই । তাদের দৃষ্টান্ত পুস্তক বহনকারী গর্দভ ! কত নিকৃষ্ট সে সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত যারা আল্লাহর আয়াত সমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে । আল্লাহ অবিচারক সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না — ” ।
সুরা – জুমআ / ৫ ।

হযরত মুসার (আঃ) উম্মতের চেয়েও নিকৃষ্টমানের Original 100% pure উম্মত হল এরাই —– ।

আজ আর নয় ।
সকলকে সালাম জানিয়ে আজকের মত বিদায় ।
খোদা-হাফেজ ।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen + 4 =