এ কেমন সিদ্বান্ত আমাদের ।
স্থান – গাদীর এ খুম ।
প্রক্ষাপট – প্রথম ও শেষ বিদায় হজ্ব থেকে ফেরার পথে ।
সময়কাল – জোহর নামাজের সময় ।
উপস্থিত জনতা – প্রায় সোয়ালক্ষ হজ্ব ফেরৎ হাজী সাহাবাবৃন্দ ।
পবিত্র কোরআন – সুরা মায়েদা / ৬৭ ।
নির্দেশদাতা – স্বয়ং মহান আল্লাহ ।
নির্দেশ বহনকারী – হযরত জীব্রাইল (আঃ) ।
মূল বক্তা – মহানবী (সাঃ) ।
মূল ঘোষিত বিষয় –
নবীজীর (সাঃ) ইন্তেকাল পরবর্তী মহান আল্লাহ কতৃক মনোনীত ও নির্বাচিত এবং মহানবী (সাঃ) কতৃক ঘোষিত সমগ্র সৃষ্টিজগত বিশেষ করে সমগ্র মুসলিম জাতির সর্বপ্রথম খলীফা বা ইমাম হিসাবে মাওলা আলী ইবনে আবু তালিবের (আঃ) চুড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষনা ও নিশ্চিতকরন ।
মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (সাঃ) প্রকাশ্য এই ঘোষনা বা আদেশ সকল মুমিন মুসলমানের জন্য মেনে নেওয়া বাধ্যতামূলক বা ওয়াজীব বটে ।
নবুয়ত ধারার সমাপ্তির পরে ইমামত ধারা এভাবেই চালু হল । এই ইমামত ধারা রোজ কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে ।
ইমামত ধারার পবিত্র ইমামগন (আঃ) কে কে হবেন সেটাও নাম ধরে ধরে মহানবী (সাঃ) স্বয়ং নিজে স্পষ্ট করে বলে দিয়ে গেছেন । অর্থাৎ ইমামত ধারার পবিত্র বারজন ইমামগনের (আঃ) নাম অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে মহানবী (সাঃ) বলে গেছেন ।
বিদায় হজ্ব থেকে ফেরার পথে গাদীর এ খুম নামক স্থানে লক্ষাধিক হজ্ব ফেরৎ হাজী সাহাবাগনের সম্মুখে প্রকাশ্য দিবালোকে মহানবী (সাঃ) স্বয়ং নিজে নবুয়ত ধারার সমাপ্তির পরে অর্থাৎ নবীজীর (সাঃ) ইন্তেকালের পরে ইমামত ধারার সর্বপ্রথম ইমাম বা খলীফা হিসাবে আলী ইবনে আবু তালিবকে (আঃ) পরিচয় বা মনোনয়ন দিয়ে গেছেন ।
প্রিয় পাঠক ,
অতি আশ্চর্য্য ও চরম দুঃখের বিষয় হল যে , প্রকাশ্য দিবালোকে লক্ষাধিক হজ্ব ফেরৎ হাজী সাহাবাবৃন্দের সম্মুখে মহানবীর (সাঃ) প্রকাশ্য এই ঘোষনা বিশ্বের শতকরা সত্তর ভাগ মুসলমান বেমালুম ভুলে গেলেন অথবা ঐতিহাসিক এই সত্য বিষয়টি পুরোটাই ধামাচাপা দিয়ে ফেলা হল !
পক্ষান্তরে ,
মহানবীর (সাঃ) একমাত্র আশ্রয়দাতা ও পৃষ্ঠপোষকতাদানকারী মহান ব্যক্তি হযরত আবু তালিবের (আঃ) ইন্তেকালের সময় নবীজী (সাঃ) ওনার চাচা হযরত আবু তালিবের (আঃ) কানে চুপি চুপি যে কথাগুলো বললেন —-
চাচা ভাতিজার একান্তে কানে কানে গোপনীয় সেই কথাগুলি অতি উত্তমভাবে বাজারজাতকরন করা হইল ।
ভূয়া এই বাজারজাতকরনের ফলাফল এটাই যে , মহানবীর (সাঃ) আশ্রয়দাতা ও পৃষ্ঠপোষকতাদানকারী শ্রেষ্ঠ মুমিন মহান ব্যক্তিটি নিমিষেই একজন কাফের হিসেবে পরিচিতি পেয়ে গেলেন !
বিশ্বের শতকরা সত্তর ভাগ মুসলমান ভাইরা অবৈধ ও ভূয়া এই বাজারজাতকরনকৃত ফরমালিনযুক্ত ভূয়া এই হাদিসটি মনে প্রানে বিশ্বাস করিয়া গর্ববোধে স্ফীত হইয়া জান্নাতের কামনা করিয়া মৃত্যুবরন করিতেছেন ।
অবাক করা চুড়ান্ত বিশ্লেষন —
প্রকাশ্য দিবালোকে সোয়ালক্ষ হজ্ব ফেরৎ হাজী সাহাবাবৃন্দের সম্মুখে নবীজী (সাঃ) কতৃক প্রকাশ্য ঘোষনাটিকে বিশ্বের শতকরা সত্তর ভাগ মুসলমান বেমালুম ভুলে গেলেন ! পক্ষান্তরে চাচা ভাতিজার একান্তে কানে কানে চুপি চুপি গোপনীয় কথাটি দিব্যি স্মরনে রেখেছেন !
পাঠক ,
এবারে চলুন , একটু আত্ম বিশ্লেষন করি —
একটিবার বিবেচনা করে দেখলেন না যে , চাচা ভাতিজার কানে কানে চুপি চুপি বলা এই কথাটি বলার সময় অন্য কেউ শুনল কিনা !
অথবা বাজারজাতকৃত এই কথাটির সত্যতা কতটুকু ?
একটিবার বিবেচনা করে দেখলেন না যে , চরম অন্যায় ও অবৈধভাবে প্রচারিত এই কাফের ব্যক্তিটির প্রতক্ষ্য তত্বাবধানে মহানবী (সাঃ) কিভাবে দীর্ঘ চল্লিশটি বছর লালিত পালিত হইলেন ?
একটিবার বিবেচনা করে দেখলেন না যে , চরম অন্যায় ও অবৈধভাবে প্রচারিত এই কাফের ব্যক্তিটি কি করে মহানবীর (সাঃ) সর্বপ্রথম বিবাহের কাজী হইলেন ?
একটিবার বিবেচনা করে দেখলেন না যে , চরম অন্যায় ও অবৈধভাবে প্রচারিত এই কাফের ব্যক্তিটিকে মহান আল্লাহ কিভাবে পবিত্র কাবা গৃহের রক্ষক ও তত্বাবধায়ক হিসাবে মনোনয়ন দিলেন ?
একটিবার বিবেচনা করে দেখলেন না যে , চরম অন্যায় ও অবৈধভাবে প্রচারিত এই কাফের ব্যক্তিটির একপুত্রের জন্ম কিভাবে পবিত্র কাবা গৃহের ঠিক অভ্যন্তরে হয় ?
একটিবার বিবেচনা করে দেখলেন না যে , চরম অন্যায় ও অবৈধভাবে প্রচারিত এই কাফের ব্যক্তিটির পুত্র কিভাবে মহানবীর (সাঃ) জ্ঞানের শহরে প্রবেশের একমাত্র দরজা হয় ?
একটিবার বিবেচনা করে দেখলেন না যে , চরম অন্যায় ও অবৈধভাবে প্রচারিত এই কাফের ব্যক্তিটির একপুত্র কিভাবে জান্নাত ও জাহান্নামের বন্টনকারী হয় ?
একটিবার বিবেচনা করে দেখলেন না যে , চরম অন্যায় ও অবৈধভাবে প্রচারিত এই কাফের ব্যক্তিটির পুত্রবধূ কিভাবে জান্নাতের সম্রাজ্ঞী নির্বাচিত হইলেন ?
একটিবার বিবেচনা করে দেখলেন না যে , চরম অন্যায় ও অবৈধভাবে প্রচারিত এই কাফের ব্যক্তিটির দুই নাতি কিভাবে জান্নাতের যুবকদের সম্রাট হয় ?
একটিবার বিবেচনা করে দেখলেন না যে , চরম অন্যায় ও অবৈধভাবে প্রচারিত এই কাফের ব্যক্তিটির পুত্র , নাতি-পোতাদের হাতে মহান আল্লাহ ইসলামকে রক্ষা করার দায়িত্ব অর্পন করেছেন !
ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায় হার কারবালাকে বাদ — ।
একটিবার বিবেচনা করে দেখলেন না যে , চরম অন্যায় ও অবৈধভাবে প্রচারিত এই কাফের ব্যক্তিটির পবিত্র বংশধারা থেকে মহান আল্লাহ ইমামত পদ্বতি বহাল রেখেছেন !
একটিবার বিবেচনা করে দেখলেন না যে , চরম অন্যায় ও অবৈধভাবে প্রচারিত এই কাফের ব্যক্তিটির মান মর্যাদার শানে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে সুরা আলে ইমরান নামে আস্ত একটি সুরা নাজিল করেছেন !
পবিত্র কোরআন চ্যালেজ্ঞ দিয়ে বলে যে , জালেম ও কাফেরের হাতে ইমামতের ধারা দেয়া হবে না ।
সকলের প্রতি বিনীত জিজ্ঞাসা —
তাহলে হে বিজ্ঞ মুসলমান ভাইয়েরা ! মূয়াবীয়া তথা বনু উমাইয়াদের প্রচারিত চরম এই ভূয়া কাফের সংক্রান্ত হাদিসটি কিভাবে গলাধঃকরন করছেন ?
লেখাটির শেষাংশ —
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বোধকরি এই কথাটি অনেক জায়গাতেই আক্ষেপ করে বলেছেন যে –
‘ —- এ কেমন সিদ্বান্ত তোমাদের , তোমাদের কি হয়েছে , তোমরা কেমন বিচার করছ ? তবে কি তোমরা চিন্তা ভাবনা কর না — ” ?
সুরা – সাফফাত / ১৫৪ , ১৫৫ ।
হায় ! গাদীর ত্যাগকারী মুসলমান ভাইয়েরা –
আর কবে মোদের বিবেক জাগ্রত হইবে !
আজ আর নয় –
সকলেই ভাল ও সুস্থ থাকুন –
এই কামনায় ।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − 12 =