দোয়া সম্পর্কে বার ইমামীয়া শীয়াদের বিশ্বাস —-

মহানবী (সাঃ) বলেন ,
“দোয়া হল বিশ্বাসীদের অস্ত্র , দ্বীনের খুঁটি এবং আকাশ ও পৃথিবীর জন্য নূর” ।

আর এটা বার ইমামীয়া শীয়াদের বিশেষত্বে পরিনত হয়েছে , যার দ্বারা এই গোত্রকে স্বতন্ত্রভাবে সনাক্ত করা যায় ।
তারা এ দোয়ার গুরুত্ব , আদব এবং এগুলোর মধ্যে কোনগুলো আহলে বাইত (আঃ) থেকে বর্নিত হয়েছে সে সম্পর্কে শত শত পুস্তক লিখেছেন । এ সকল পুস্তকে মহানবী (সাঃ) ও আহলে বাইত (আঃ) এর লক্ষ্য সম্পর্কে এসেছে । আর সেই সাথে তাঁদের অনুসারীদেরকে নিয়মিত দোয়া পাঠের ব্যাপারে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেয়া হয়েছে ।

এমনকি তাঁদের নিকট থেকে বর্নিত হয়েছে ,
” সর্বোত্তম প্রার্থনা হল দোয়া ” ।
” মহান আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম প্রার্থনা হল দোয়া ” ।
” নিশ্চয়ই দোয়ার মাধ্যমে চরম দূর্দশা ও শাস্তি অপসারিত হয় ” ।
” দোয়া সকল শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রনা থেকে মানুষকে মুক্তি দান করে ” ।

দোয়ার সম্রাট হযরত আমিরুল মুমিনিন আলী (আঃ) থেকে অসংখ্য দোয়া বর্নিত হয়েছে ।

এর কারন সুষ্পষ্ট , তিনি হলেন একত্ববাদীদের সর্দার এবং মুমিনদের শিরোমনি । তাঁর বক্তৃতার মত তাঁর দোয়াও অারবী সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ অবদান হিসাবে পরিগনিত হয়ে আসছে ।

যেমন , দোয়ায় কুমাইল ইবনে যিয়াদ নামে প্রসিদ্ব দোয়াটি ।
এ দোয়াগুলোতে সন্নিবেশিত আছে খোদা পরিচিতি , দ্বীনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষন যা একজন সঠিক ও সমুন্নত মুমিন মুসলমান হওয়ার পথে সহায়ক ।

প্রকৃতপক্ষে মহানবী (সাঃ) ও আহলে বাইত (আঃ) এর নিকট থেকে বর্নিত দোয়াগুলো মুসলমানদের জন্য উত্তম পন্থাস্বরুপ ।
যদি কেউ এগুলো সম্পর্কে গভীর ভাবে চিন্তা করে তাহলে এগুলো তাকে ঈমান ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে দৃঢ়তা প্রদান করবে এবং আল্লাহর পথে পরিশুদ্ব আত্মার অধিকারী করবে ।

সুপ্রিয় পাঠক ,
অবশ্যই এটা চ্যালেজ্ঞ দিয়ে বলা যায় যে , এই রকম উন্নত মানের অন্তর ছুঁয়ে যাওয়া দোয়ার ভাষা ও সাহিত্যমান একমাত্র আহলে বাইত (আঃ) গনের নিকট ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া অসম্ভব ।

ইমাম আলী (আঃ) কতৃক বর্নিত দোয়ায় কুমাইলের সামান্য কিছু অংশবিশেষ তুলে ধরছি , লক্ষ্য করুন প্রতিটি বাক্যের শব্দ চয়ন ও প্রায়োগিক ব্যবহারের নমুনা —

“—- হে আমার মাবুদ , আমার প্রতিপালক , আমার মালিক , আমার অভিভাবক ,
কোন বিষয় আমি তোমার কাছে অভিযোগ জানাব ।
আর কোনটা নিয়ে আমি অশ্রু ঝরাব , আর বিলাপ করব ।
শাস্তির যাতনা ও তার তীব্রতার জন্য , নাকি শাস্তির মেয়াদের দীর্ঘতার জন্য ?

অতএব যদি তুমি আমাকে তোমার শত্রুদের সাথে শাস্তি দিতে নিয়ে যাও
এবং তোমার কঠিন আযাব ভোগকারী লোকদের সাথে আমাকেও একত্র কর ।
আর তোমর প্রেমিক ও অলী আউলিয়াদের কাছ থেকে আমাকে পৃথক করে নাও ।

তাহলে হে আমার মাবুদ , হে আমার মালিক , হে আমার অভিভাবক , হে প্রতিপালক !
আমি তোমার এ শাস্তি সয়ে নেব , কিন্ত তোমার থেকে এ বিছিন্নতা আমি কিভাবে সহ্য করব ? এবং ধরা যাক , আমি তোমার আগুনের দহন সইতে পারলাম ।
কিন্ত কেমন করে আমি তোমার ক্ষমা ও দয়া না পাবার বেদনা সহ্য করব ?
কেমন করে আমি আগুনের মাঝে বসবাস করব যখন তোমার ক্ষমার উপর ভরসা করে অামি আশায় বুক বেধেছি ? ——- ” ।

পাঠক ,
দোয়ার ছোট্ট এই অংশটুকু আবার গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং উপলব্দি করুন এর প্রতিটা কথার অন্তনিহিত তাৎপর্য ।

অাসলেই পৃথিবীর বার ইমামীয়া অনুসারীগন বা শীয়ারা সত্যিই ভাগ্যবান – এই অর্থে যে , এই শীয়ারা মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) কতৃক ঘোষিত ও নির্বাচিত পবিত্র বারজন ইমাম (আঃ) গনের আনুগত্য করে থাকেন ।

শেয়ার করুন