নামাজের ওয়াক্তের শুরুতেই অর্থাৎ আজানের পরপরই নামাজ পড়ার গুরুত্ব ও ফযিলত !
জনৈক যুবক শেইখ হাসান আলী নাখোদকি ইস্পাহানির কাছে এসে বলল , ‘আমার জীবনে তিনটি সমস্যা রয়েছে । আমি আশা করি আপনি এই সমস্যাগুলির সঠিক সমাধান দিয়ে আমাকে কৃতজ্ঞ করবেন !’
আমার প্রথম সমস্যা –
আমার খুবই ইচ্ছা যে , আমি একজন ঈমানদার মুমিন কন্যার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাই । কিন্ত কিছুতেই সে আশা পূর্ন হচ্ছে না !
আমর দ্বিতীয় সমস্যা –
আমি মনেপ্রানে চাই যে , আমার কাজকর্ম ও আয়-রোজগার বরকতপূর্ণ হউক । কিন্ত কিছুতেই সে আশা পূর্ন হচ্ছে না !
আমার তৃতীয় সমস্যা –
সবসময় আশা করি যে , আমি সফলকাম হব । কিন্ত কিছুতেই সে আশা পূর্ন হচ্ছে না !
জবাবে শেইখ হাসান আলী আলী বললেন ,
তোমার প্রথম সমস্যার সমাধান হল-
প্রথম ওয়াক্তেই নামাজ আদায় কর !
তোমার দ্বিতীয় সমস্যার সমাধান হল-
প্রথম ওয়াক্তেই নামাজ আদায় কর !
তোমার তৃতীয় সমস্যার সমাধান হল-
প্রথম ওয়াক্তেই নামাজ আদায় কর !
যুবক বিস্ময় সহকারে বলল যে , ‘তিনটি সমস্যার একটাই সমাধান ?’
শেইখ হাসান বললেন , ‘প্রথম ওয়াক্তে নামাজ আদায় করাই হচ্ছে সকল সমস্যা সমাধানের শ্রেষ্ঠ চাবি !’
পবিত্র কোরআনে নামাজ আদায় করার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ব এবং আদেশ প্রদান করা হয়েছে ।
” —- এবং তোমার পরিবারবর্গকে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দান কর এবং তুমি তার উপরে ধৈর্য সহকারে প্রতিষ্ঠিত থাক —- ” ।
সুরা – ত্বাহা / ১৩২ ।
বিনীত অনুরোধ যে , আপনার আদায়কৃত নামাজটি অবশ্যই পবিত্র কোরআনে বর্নিত নির্দেশ মোতাবেক এবং রাসুলের (সাঃ) আদায়কৃত নামাজের সাথে যেন হুবহু মিলে যায় ।
” — সালাত সেইভাবেই কায়েম কর যেভাবে তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন আর যেভাবে ফিরিয়া আসিবে — ” ।
সূত্র – সূরা আরাফ – ২৯ ।
রাসূল (সাঃ) বলেছেন , “তোমরা সেইভাবে নামায আদায় করিও যেভাবে আমাকে নামায আদায় করতে দেখ” ।
সূত্র – সহীহ বোখারী – মিশকাত আরবী ৬৬ পৃঃ / মিশকাত বাংলা আরাফাত পাবলেকেশন্স, ২য় খন্ড, পৃঃ ৫৮ কিতাবুস সালাত, হাঃ ৬৬২ ।
প্রিয় পাঠক ,
অতীতে যা হওয়ার হয়ে গেছে । আজ থেকে আমরা সকলেই এই প্রতিজ্ঞা করি যে , এখন থেকে আজান হওয়ার সাথে সাথেই অর্থাৎ নামাজের প্রথম ওয়াক্তেই নামাজ আদায় করিব ।
মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে প্রথম ওয়াক্তে নামাজ আদায় করার সামর্থ দান করুক ।
ঈলাহী আমিন ।
শেয়ার করুন