প্রেরনকৃত সেই লানত কোথায় গেল ?

মোবাহেলা ময়দানের মূল এজেন্ডা ছিল একটি –
যে সম্প্রদায় মিথ্যা বলছে তাদের উপর সর্বশক্তিমান আল্লাহর কঠিন লানত বর্ষিত হবে ।

মোবাহেলা ময়দানে পক্ষ ছিল মাত্র দুইটি –
প্রথম দল – রাসুল (সাঃ) এবং তাঁর পবিত্র আহলে বাইতগন (আঃ) ।
দ্বিতীয় দল – নাজরানের খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের সম্মানীয় জ্ঞানী আলেমগন ।

প্রিয় পাঠক ,
দেখে নিন এই বিষয় পবিত্র কোরআনের ঘোষনা ও চ্যালেজ্ঞ ।

“আপনার কাছে সঠিক জ্ঞান আসার পর যে কেউ এ বিষয়ে আপনার সাথে বিতর্ক করে (এবং সত্য মেনে নিতে চায় না) তাকে বলে দিন – এস , আমরা আহবান করি আমাদের পুত্র সন্তানদের এবং তোমাদের পুত্র সন্তানদের, আমাদের নারীগণকে এবং তোমাদের নারীগণকে , আমাদের নিজেদেরকে এবং তোমাদের নিজেদেরকে , অতঃপর আমরা (মহান আল্লাহর কাছে) বিনীতভাবে প্রার্থনা করি এবং মিথ্যাবাদীদের ওপর মহান আল্লাহর অভিশম্পাৎ করি ।”
সুরা – আলে ইমরান / ৬৩ ।

মোবাহেলার ময়দানে সেদিন যা ঘটেছিল –
মোবাহেলার ময়দানে নবীজী (সাঃ) সহ পবিত্র আহলে বাইতগনের (আঃ) পাঁচজনকে দেখে খ্রীষ্টান আলেমগন কোন প্রকার চ্যালেজ্ঞে গেলেন না । কারন আহলে বাইতের (আঃ) মান মর্যাদা , শান শওকতের ব্যাপারে খ্রীষ্টান আলেমগন সম্পূর্নরুপে অবগত ছিলেন ।
খ্রীষ্টানগন নবীজীর (সাঃ) পবিত্র আহলে বাইতগনের (আঃ) প্রতি যথাযথ সম্মান প্রর্দশনপূর্বক আইন মেনে খাজনা দেয়ার অঙ্গিকার করলেন ।
মোটামোটি এই হল মোবাহেলার সার সংক্ষেপ ।

এই ঘটনা থেকে একটা বিষয় খুবই পরিস্কার যে , মুসলমান তারা ছিলেন না । তারা ছিলেন খ্রীষ্টান । খ্রীষ্টান হওয়ার পরেও তারা নবীজীর (সাঃ) পবিত্র আহলে বাইতের (আঃ) বিরুদ্বে দাঁড়ায়নি !

ননমুসলিম খ্রীষ্ট্রানগন নবীজীর (সাঃ) পবিত্র আহলে বাইতের (আঃ) সাথে বিন্দু পরিমান বেয়াদবী তো দূরের কথা , উল্টা যথাযথ সম্মান সহকারে তাঁদের সাথে প্রচলিত আইন মেনে একত্রে বসবাস করেছেন ।
অর্থাৎ খ্রীষ্টান সম্প্রদায় নবীজীর (সাঃ) পবিত্র আহলে বাইতকে (আঃ) পৃথিবীতে প্রকাশ্যে সম্মান করেছেন ।
যেহেতু খ্রীষ্টান সম্প্রদায় নবীজীর (সাঃ) পবিত্র আহলে বাইতের (আঃ) প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেছিলেন সেহেতু এখনও খ্রীষ্টান সম্প্রদায় পৃথিবীতে যথেষ্ট সম্মান নিয়ে বহাল তবিয়তে বেঁচে আছেন ।

পাঠক ,
প্রশ্নটা তাহলে থেকেই গেল যে –
বিষয়টি তাহলে পরিস্কার যে , ঐ সময় আল্লাহ কতৃক প্রেরিত লানত খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের উপর বর্ষিত হয় নাই ।
তাহলে সেই সময় মহান আল্লাহ তাঁর দরবার থেকে যে লানত প্রেরন করলেন সেই লানত পৃথিবীর কোন অঞ্চলে অথবা কোন সম্প্রদায়ের উপর বর্ষিত হল ?

প্রিয় পাঠক ,
আসুন জেনে নেই যে , আল্লাহ কতৃক প্রেরিত সেই লানত পৃথিবীর কোন অঞ্চলে অথবা কোন সম্প্রদায়ের উপর বর্ষিত হল ?

————— প্রেরনকৃত সেই লানত কোথায় গেল ————— ?

গাদীরের ঘোষনাকে সম্পূর্ন অস্বীকার করে রাসুলের (সাঃ) ইন্তেকালের কয়েকটি দিন পরেই মহান আল্লাহ কতৃক প্রদত্ত নবীজীর (সাঃ) পবিত্র আহলে বাইতের (আঃ) প্রাপ্য অধিকার অবৈধভাবে ছিনিয়ে নেওয়া হইল ।
অর্থাৎ রাসুলের (সাঃ) ইন্তেকালের পরে মহান আল্লাহর ঘোষনা মোতাবেক সর্বপ্রথম খলীফা এবং ইমাম হওয়ার একমাত্র বৈধ অধিকারী হচ্ছেন হযরত আলী ইবনে আবু তালিব (আঃ) ।
হযরত আলীর (আঃ) ন্যায্য অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে অন্য একজন প্রথম খলীফার পদ অবৈধভাবে দখল করে নিলেন !

দ্বিতীয় যে অপকর্ম করা হইল —
রাসুলের (সাঃ) ইন্তেকালের কয়েকটি দিন পরেই খাতুনে জান্নাত ফাতেমা যাহরার (সাঃআঃ) বৈধ পৈত্রিক সম্পত্তি বাগে ফাদাক অবৈধ ভাবে ছিনিয়ে নিলেন প্রথম খলীফা বাহাদুর মহাশয় ।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ যাঁদেরকে পুতঃপবিত্র ঘোষনা করলেন ।
যাঁদের উপর দরুদ সালাম প্রেরন ব্যতীত সকল প্রকারের নামাজ বাতিল হয়ে যায় ।
“ – নিশ্চয়ই আল্লাহ চান তোমাদের কাছ থেকে সমস্ত অপবিত্রতা দূরে রাখতে , হে আহলে বাইত , এবং তোমাদেরকে পবিত্র করতে পূর্ন পবিত্রকরনের মাধ্যমে – “ ।
সুরা – আহযাব / ৩৩ ।

প্রথম খলীফা বাহাদুর ক্ষমতার দম্ভে এতটাই অন্ধ ছিলেন যে , নবীজীর (সাঃ) পবিত্র আহলে বাইতের (আঃ) সাক্ষী অস্বীকার করলেন ।
খাতুনে জান্নাত মা জননী ফাতেমার (সাঃআঃ) বৈধ পৈত্রিক সম্পত্তি বাগে ফাদাক অবৈধভাবে ছিনিয়ে নিলেন !
অর্থাৎ প্রথম খলীফা বাহাদুর মহাশয় নবীজীর (সাঃ) পবিত্র আহলে বাইতের (আঃ) বিরুদ্বে দাঁড়িয়ে গেলেন !

পাঠক ,
খ্রীষ্টানদের জন্য প্ররনকৃত সেই লানত তখন পুরোপুরিভাবে বর্ষিত হল বনু সকীফার অবৈধ খলীফা এবং ওনার দলীয় ব্যক্তিবর্গের উপর ।
বনু সকীফার অনুসরনকৃত মুসলমান হিসাবে লানতের সেই ধারাবাহিকতা আজও বংশ পরম্পরায় বহন করে চলেছি আমরা !
পৃথিবীতে যে কয়টি ধর্মীয় জাতি বিদ্যমান রয়েছে তাদের সকলের মধ্যে সবথেকে অপমানিত এবং ঘৃনিত হয়ে সর্বনিকৃষ্ট জাতি হিসাবে কোনমতে বেঁচে আছি ।
বর্তমানে পৃথিবীতে মুসলমানদের অবস্থা দেখলেই যে কেউ এই বাস্তবতা অস্বীকার করতে পারবে না ।

মারাত্মক ক্ষমাহীন অপরাধ একটিই যে , নবীজীর (সাঃ) পবিত্র আহলে বাইতের (আঃ) মান মর্যাদা সকল কিছু জানার পরেও শুধুমাত্র ইহকালীন ক্ষমতার লোভে আমাদের পূর্বপুরুষগন নবীজীর (সাঃ) পবিত্র আহলে বাইতের (আঃ) বৈধ অধিকার গায়ের জোরে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন ।
আজও আমরা তাঁদেরকে তাঁদের প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দেই নাই ।

বনু সকীফার সেই সকল লানতুল্লাহগনকে আমরা অবলীলাক্রমে রাঃআনহু বলেই যাচ্ছি ।
যেমন কর্ম তেমন ফল !

যাইহোক ,
আশা করি বুঝতে পেরেছেন খ্রীষ্টানদের জন্য প্রেরনকৃত লানত জগতের কোন ধর্মীয় সম্প্রদায় বংশ পরম্পরায় আজও বহন করে চলেছে !

লানত বহনকারী বনু সকীফার অনুসরনকৃত মুসলমান ভাইদেরকে সালাম জানিয়ে আজকের মত বিদায় ।
খোদা-হাফেজ ।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × three =