প্রসঙ্গ – বার ইমামীয়া পদ্বতি ।
এই বিষয় রাসুল (সাঃ) কিছু বলে গেছেন কি ?

প্রসঙ্গ – ইমামত পদ্বতি তথা পবিত্র বারজন ইমামগন (আঃ) ।

সালামুন আলাইকুম —

সুপ্রিয় পাঠক ,
অনিচ্ছা সত্বেও তথ্যসহ লেখাটি বেশ দীর্ঘ হয়ে গেল বলে প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি । তবে কথা দিলাম যে , ধৈর্য সহকারে পুরোটা পড়ুন । অনেক অজানা নতুন তথ্য জানবেন ।

প্রসঙ্গ — ইমামত পদ্বতির পবিত্র বারজন ইমামগন (আঃ) ।

অনেক সুন্নি মুসলমান ভাই প্রশ্ন করেন যে , রাসুল (সাঃ) কি সত্যিই বার ইমামীয়া পদ্বতি রেখে গেছেন কি ?
বিষয়টি যদি সত্য হয় তাহলে ঐ বারজন ইমামগনের (আঃ) নাম , পরিচয় ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে কিছু বলে গেছেন কি ?

সম্মানীয় পাঠক ,
সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদের (সাঃ) ইন্তেকালের সাথে সাথেই নবুয়ত পদ্বতির যবনিকা হয়ে যায় ।
নবুয়ত পদ্বতির সমাপ্তির পর সর্বশক্তিমান আল্লাহ কতৃক মনোনীত ও নির্বাচিত ইমামত পদ্বতির সূচনা হয় । উল্লেখ্য যে , হযরত মুহাম্মাদের (সাঃ) ইন্তেকাল থেকে কেয়ামত পর্যন্ত সমগ্র সৃষ্টিজগত বিশেষ করে মানব এবং জ্বীন জাতির হেদায়েত এবং পরিচালনা করার জন্য আল্লাহর হুজ্জাত হিসাবে আল্লাহ কতৃক মনোনীত এবং নির্বাচিত ইমামগনের সংখ্যা সর্বমোট বারজন ।

পাঠক ,
দয়া করে পবিত্র কোরআনে এই আয়াতগুলি গভীর মনযোগ দিয়ে পড়ুন –

“ – সেদিন আমরা মানবজাতির প্রত্যেক দলকে আহবান করব তাদের ইমামসহ – “ ।
সুরা – বনী ইসরাঈল / ৭১ ।

“ – এবং প্রত্যেক জাতির জন্য আছে একজন পথপ্রদর্শক (হাদী) — “ ।
সুরা – রাদ / ০৭ ।

“ – আমিই আপনাকে সত্যসহ প্রেরন করেছি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরুপে । আর এমন কোন উম্মত ছিল না যাদের মধ্যে কোন সতর্ককারী আসেনি —- “ ।
সুরা – ফাতির / ২৪ ।

“ – আমরা তাদেরকে ইমাম নির্বাচিত করেছিলাম আমাদের আদেশ অনুসারে হেদায়েত করতেন — “ ।
সুরা – আম্বিয়া / ৭৩ ।

“ – এবং তাদের মধ্যে আমরা নিয়োগ দিয়েছিলাম ইমামদের যারা আমাদের আদেশে পথ দেখায় — “ ।
সুরা – সাজদাহ / ২৪ ।

“ – এটাই আল্লাহর বিধান যা পূর্ব থেকে চলে আসছে এবং তোমরা কখনই পাইবে না আল্লাহর বিধানে কোন পরিবর্তন — “ ।
সুরা – ফাতহ / ২৩ ।

পবিত্র কোরআনে ইমাম বা ইমামত সম্পর্কিত এই ধরনের সুস্পষ্ট আয়াত বিদ্যমান থাকার পরেও ঐতিহাসিক দুঃখজনক বাস্তবতা এটাই যে — হযরত মুহাম্মাদের (সাঃ) ইন্তেকালের পর মুসলমানগণ দুই দলে বিভক্ত হয়ে পরে ।

এক দল বিশ্বাস করেন যে , নবীজী (সাঃ) তাঁর কোন স্থলাভিষিক্ত বা প্রতিনিধি নিয়োগ করে যান নাই । এই গুরু দায়িত্ব তিনি তাঁর উম্মতদের উপর অর্পন করে গেছেন ।

পক্ষান্তরে , অন্য দলটি বিশ্বাস করেন যে , তিনি তাঁর স্থলাভিষিক্ত প্রতিনিধি , খলীফা বা ইমাম নিযুক্ত করে গেছেন ।
পুতঃপবিত্র এই ইমামদের সংখ্যা হচ্ছে বারজন । যাঁদের প্রথমজন হচ্ছেন হযরত আলী (আঃ) আর সর্বশেষ বারতম ইমাম হচ্ছেন হযরত মাহদী (আঃ) ।

পবিত্র বারজন ইমাম সর্ম্পকে বিভিন্ন হাদীস ও রেওয়াযেত বর্ণিত হয়েছে । এমনকি রাসুল (সাঃ) স্বয়ং নিজে ঐ বারজন ইমামগনের নাম ও বংশ পরিচয়সহ সকল কিছুই বলে গেছেন ।
তাদের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য গ্রন্থ সমূহ হচ্ছে সহীহ আল বুখারী , সহীহ আল মুসলিম , সহীহ আত তিরমিযি , আবু দাউদ , মুসনাদে আহমদ , ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাত , ফারায়েদ নি , সিয়ারানীও আল ইয়াওয়াক্বিত ওয়াল জাওয়াহীর ।

পাঠক ,
সঙ্গত কারনে এখানে শীয়াদের কোন রেফারেন্স দেওয়া হইল না ।
সমস্ত রেফারেন্স সুন্নিদের বিখ্যাত সহীহ সিত্তাহ হাদিস গ্রন্থ এবং নামকরা সর্বজন স্বীকৃত কিতাব থেকে দেওয়া হল ।

আসুন দেখে নেওয়া যাক –
বার ইমামীয়া পদ্বতির সর্বপ্রথম ইমাম হিসাবে যে ব্যক্তির নামটি সর্বপ্রথম আল্লাহর রাসুল (সাঃ) ঘোষনা করলেন তিনি হলেন –
হযরত আলী ইবনে আবু তালিব (আঃ) ।
জীবনের প্রথম এবং সর্বশেষ হজ্ব পালন শেষ করে মদীনাতে ফেরার পথে গাদীর এ খুম নামক স্থানে পবিত্র কোরআনের এই আয়াতটি নাজিল হল ।

“ – হে রাসুল , পৌঁছে দাও যা তোমার কাছে অবতীর্ন হয়েছে তোমার প্রভুর কাছ থেকে এবং যদি তুমি তা না কর , তুমি তাঁর রেসালতই পৌঁছে দাও নি এবং আল্লাহ তোমাকে জনতার হাত থেকে রক্ষা করবেন । নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফের দলকে পথ দেখান না —- “ ।
সুরা – মাইদাহ / ৬৭ ।

এই আয়াত নাজিলের প্রেক্ষিতে সোয়ালক্ষ হজ্ব ফেরৎ হাজী সাহাবাগনের সম্মুখে রাসুল (সাঃ) স্বয়ং নিজে হযরত আলী ইবনে আবু তালিবকে (আঃ) রাসুলের (সাঃ) ইন্তেকাল পরবর্তী সর্বপ্রথম খলীফা এবং ইমাম হিসাবে নিযুক্ত করে ঘোষনা দিলেন ।
সুন্নি তথ্যসূত্র – তাবাকাতুল কুবরা ইবনে সাদ , খন্ড – ২ , পৃ- ৩৩৬ / কিতাবুল সাকাত , খন্ড – ২ , পৃ- ১২৪ / তাযকিরাতুল খাওয়াস , পৃ- ৩০ / তারিখুল খামিস , খন্ড – ২ , পৃ- ১৪৯ / সিরাহ হালবিয়াহ , খন্ড – ৩ , পৃ- ২৫৭/ তাফসীরে দুররে মানসুর , খন্ড – ৩, পৃ- ১১৭/ তাফসীরে কাবীর , খন্ড – ১২ , পৃ- ৫০ / তাফসীরে মানারিজ, খন্ড – ২ , পৃ- ৮৬ / তাফসীরে আলুসি , খন্ড – ২, পৃ- ৩৮৪ / আসবাবুন নুযুল , পৃ- ১৩৫ / শাওয়াহেদুত তানযিল , খন্ড – ১ , পৃ- ১৯২ / তারিখে দামেস্ক , খন্ড – ২ , পৃ- ৮৬ / ফাতহুল কাদির , খন্ড – ২, পৃ- ৬০ / মাতালেবাস সাউল, খন্ড – ১, পৃ- ৪৪ / ফুসুলুল মোহিম্মাা, পৃ- ৫৫ / ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত, পৃ- ১২০ / আল মেনাল ওয়াল নেহাল, খন্ড – ১ , পৃ- ১৬৩ / উমদাতুল কারী ফি শারহে বুখারী, খন্ড – ৮, পৃ- ৫৮৪ / ফারায়েদুস সামতিনে, খন্ড – ১ , পৃ- ১৮৫ / ফাতহুল বায়ান ফি মাক্বাসিদুল কোরআন , খন্ড – ৩ , পৃ- ৬৩ / আরজাহুল মাতালেব, পৃ- ১১৯ (উর্দ্দু) / আল বিদায়া ওয়ান নিয়াহা , খন্ড – ৭, পৃ- ৬১২ – ৬১৬ / ইসলামী বিশ্বকোষ, খন্ড – ১০, পৃ- ৩০৭ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) / সহীস বুখারী, খন্ড – ৫, পৃ- ২৮০ (হামিদীয়া লাইব্রেরী) / সীরাতুন নবী, খন্ড – ২, পৃ- ৬০৫ (তাজ কোং) / দৈনিক যুগান্তর , ৪ঠা মার্চ , ২০০২ ইং / দৈনিক যুগান্তর , ২৩শে জানুয়ারী, ২০০৬ / দৈনিক যুগান্তর, ২৮শে জানুয়ারী , ২০০৫ / মেশকাত, খন্ড- ১১, হাদিস – ৫৮৪৪ / মাসিক মদীনা , পৃ- ১৫ , জুন ২০০৫ / তারিখে ইবনে কাসির , খন্ড – ৫ , পৃ- ২০৯ / ঐতিহাসিক আল গাদীর , পৃ- ১২৮ / আল মুরাজায়াত, পৃ- ২২২ / তাফসীরে মাযহারি , খন্ড – ৩ , পৃ- ৭৩৩- ৭৫৩ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) / আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া , খন্ড – ৭ পৃ- ৬১২-৬১৬ , খন্ড – ৫ পৃ- ৩৪৩-৩৫২ (ইসলামিক ফাউন্ডেশ) / শাহাদাতে আহলে বাইয়েত , পৃ- ৮৫-৮৬ (মানকা আবুল উলাইয়া) / আশারা মোবাশশারা , পৃ- ১৬৩ (এমদাদীয়া) / মাসিক মদীনা , পৃ – ১৫ (জুন ২০০৫ ইং) / হযরত আলী , পৃ- ৫৬ (এমদাদীয়া) / মদীনার আলো , পৃ- ৬০ (ডাঃ সুফি সাগর সামস) / আল মুরাজায়াত-পৃ- ২২২ / ঐতিহাসিক আল গাদীর , পৃঃ ৫-১২৮ (মীর রেজা হোসাইন শহীদ) / মাসিক মায়েল , পৃ- ৯-১০ (১৪২৩ হিজরী সংখ্যা, আবুল উলায়ী) / তাফসীরে দুররে মানসুর , খন্ড – ২ পৃঃ ২৯৮ (মিশর) / তাফসীরে কাবির , খন্ড – ১২ পৃ- ৫০ / শাওয়াহেদুত তানযিল , খন্ড- ১ পৃ- ১৯২-১৮৭ / তাজকিরাতুল হুফফাজ , খন্ড – ৪ পৃ- ৩৯০ (ভারত) / আসবাবুল নুযুল , পৃ- ১৩৫ / তারিখে দামেষ্ক , পৃ-৪৫২ (ইবনে আসাকির) / মাজমাউজ জাওয়ায়েদ , খন্ড – ৯ পৃ-১০৪-১০৭-১৬৩ / মুসনাদে হাম্বাল , খন্ড – ১ পৃঃ ১১৮ খন্ড- ৪ পৃ- ২৮১ খন্ড – ৫ পৃ-৩৪৭ / এলানে গাদীর , পৃ- ৪৮-৫০ (ডাঃ তাহেরুল কাদ্বরী) / ইযাযাতুল খিফা , খন্ড – ২ পৃ- ৫০৩-৫০৪ (শাহ্ ওয়ালিউল্লাহ) / সুনানে ইবনে মাজা , খন্ড – ১ পৃ- ৪৩ হাদিস ১১৬ / মুস্তাদরাক হাকেম ,খন্ড – ৩ পৃ- ১০৯ / তারিখে ইয়াকুবি , খন্ড – ২ পৃ-৪৩ / তারিখে ইবনে কাসীর , খন্ড – ৪ পৃ-২৮১-৩৬৮-৩৭০ / তাবাকাতুল কুরবা , খন্ড – ২ পৃ-৫৭ / সিরাহ্ আল হালাবিবিয়্যা , খন্ড – ৩ পৃ- ৩৯০ / তারিখে তাবারী , খন্ড – ২ পৃঃ ৪২৯ / আস সাওয়ায়েক আল মহহরেকা , পৃ- ২৫ / তারিখে দামেষ্ক , খন্ড – ২ পৃ- ৪৫ / ফুসুল আল মুহিম্মা , পৃ-২৪ / আনসাব আল আশরাফ , খন্ড – ২ পৃ- ৩১৫ / কানজুল উম্মাল , খন্ড – ৪ পৃ- ৫৩ হাদিস ১০৯২ / ফাতহুল কাদীর , খন্ড – ২ পৃ- ৬০ / মাতালেবাস সাউল , খন্ড – ১ পৃঃ ৪৪ / ইয়া নাবীউল মুয়াদ্দাত , পৃ- ১২০ / আল মেনাল ওয়াল নেহাল , খন্ড – ১ পৃ- ১৬৩ / উমদাতুল কারী ফি শারাহ্ বুখারী , খন্ড – ৮ পৃ- ৫৮৪ / রুহুল মায়নী আলুসী , খন্ড – ২ পৃ- ৩৮৪ / ফাতহুল বায়ান , খন্ড – ৩ পৃ- ৬৩ (আল্লামা সিদ্দিক হাসান খান ভুপালি আহলে হাদীস) / তারিখে বাগদাদ , খন্ড – ৮ পৃ- ৯২ / আল এতকান , খন্ড – ১ পৃ – ১৩ / আল গাদীর , খন্ড – ১ পৃ- ২১৪-২৩০ (আল্লামা আমিনী, আরবী) / আরজাহুল মাতালেব , পৃ-৯০৭-৯৬৪ (ওবাইদুল্লাহ ওমরিতসারী) / মারেফাতে ইমামত ও বেলায়েত , পৃষ্ঠা – ৪৯ ।

গাদীর এ খুমের ঐতিহাসিক ঘটনাটি কমপক্ষে ১১০ জন সাহাবী, ৮৪ জন তাবেঈন, ৩৫৫ জন ওলামা , ২৫ জন ঐতিহাসিকবিদ , ২৭ জন সংগ্রহকারী, ১১ জন ফিকাহবিদ , ১৮ জন ধর্মতাত্বিক , ৫জন ভাষাতাত্বিক বর্ননা করেছেন । সকলেই উক্ত ঘটনাটিকে সহীহ ও মোতাওয়াতের বলে গেছেন ।

হাদিসে এসেছে নবী (সাঃ) বলেছেন যে , “দ্বীন ইসলাম ধ্বংস হবেনা কিয়ামত পর্যন্ত অথবা বারজন খলীফার আগমন পর্যন্ত , তাদের মধ্যে সর্বপ্রথম হচ্ছেন আলী ইবনে আবু তালিব অতঃপর হাসান তারপর হোসাইন (আঃ) তারপর মুহাম্মদ ইবনে আলী , আলী ইবনে মুহাম্মদ , হাসান ইবনে আলী এবং তাদের সর্ব শেষ হচ্ছেন আল মাহদী (আঃ) ”।
সূত্র — সহীহ আল মুসলিম , ৬ষ্ঠ খণ্ড , পৃ- ৩-৪ / সহীহ আল বুখারী , ৪র্থ খণ্ড , পৃ- ১৫৬ / ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাহ , ১ম খণ্ড , পৃ- ৩৪৯ / সহীহ আত তিরমিযি ৩য় খণ্ড , পৃ- ৩৪২ / সুনানে আবু দাউদ , ৩য় খণ্ড , পৃ- ৩০২ / কানযূল উম্মাল , ১২তম খণ্ড ,পৃ- ১৬৫ ।

পাঠক ,
লেখার শেষভাগে চলে এসেছি ।
নিজেই দেখে নিন –
বার ইমামীয়া পদ্বতি প্রসঙ্গে রাসুল (সাঃ) অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলেছেন —
প্রসিদ্ব আহলে সুন্নাত এর পন্ডিত শায়খ সুলাইমান কান্দুজী হানাফী তুর্কি কতৃক রচিত তার প্রসিদ্ব গ্রন্থ ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত নামক গ্রন্থে বর্ননা করেছেন যে ,
নাছাল নামক একজন হিহুদী মহানবীর (সাঃ) নিকট আরজ করলেন যে , ইয়া রাসুল (সাঃ) ! আপনাকে কয়েকটি প্রশ্ন করতে চাই যা কিছুদিন ধরে আমার মনকে অশান্ত রাখছে । কথা দিচ্ছি , আপনার জবাব যদি সঠিক হয় তাহলে আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করব ।
নবী (সাঃ) বললেন , হে আবু আম্মারা , তুমি প্রশ্ন করে যাও , কোন সমস্যা নেই ।

অনুমতি পেয়ে ঐ ব্যক্তি প্রশ্ন শুরু করল ।
প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে সে খুবই সন্তষ্ট হল এবং বলল যে , আপনি খুবই সঠিক জবাব দিয়েছেন ।
প্রশ্নের এক পর্যায় সে জিজ্ঞাসা করল যে , আমাকে বলে দিন , আপনার পরে কে বা কারা আপনার উত্তরাধিকারী হবেন ?
কেননা আজ পর্যন্ত কোন নবী বা রাসুল তাঁর পরবর্তী উত্তরসূরীর নাম পরিচয় না বলে এই পৃথিবী ত্যাগ করেন নাই । যেমন আমাদের নবী হযরত মুসা (আঃ) বলে গেছেন যে , তাঁর অবর্তমানে হযরত ইউসা বিন নুন হলেন তাঁর উত্তরসূরী বা স্থলাভিষিক্ত ।

মহানবী (সাঃ) বললেন যে , “আমার পরে আমার উত্তরসূরী বা স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে আমার ভাই হযরত আলী ইবনে আবু তালিব এবং তাঁর পর আমার দুই সন্তান হাসান ও হোসাইন , অতঃপর কেয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট নয়জন ইমাম হোসাইন এর বংশ থেকে আগমন করবেন ।
লোকটি বলল , “ইয়া মুহাম্মাদ (সাঃ) , দয়া করে অবশিষ্ট নয়জনের নাম বলে দিন” ।

নবীজী (সাঃ) বললেন যে ,
“হোসাইনের ইন্তেকালের পর তাঁর পুত্র জয়নুল আবেদীন হবে ,
জয়নুল আবেদীনের অন্তধানের পর তাঁর স্বীয় পুত্র মোহাম্মাদ বাকের হবে ,
মোহাম্মাদ বাকেরের ইন্তেকালের পর তাঁর পুত্র জাফর সাদিক হবে ,
জাফর সাদিকের তিরোধানের পর তাঁর পুত্র মুসা কাজেম হবে ,
মুসা কাজেমের ইহলোক ত্যাগের পর তাঁর পুত্র আলী রেজা হবে ,
আলী রেজার ইন্তেকালের পর তাঁর পূত্র মুহাম্মাদ তাক্বী হবে ,
মুহাম্মাদ তাক্বীর তিরোধানের পর তাঁর পূত্র আল নাক্বী হবে ,
আল নাক্বীর ইহলোক ত্যাগের পরে তাঁর পূত্র হাসান আসকারী হবে ,
হাসান আসকারীর ইন্তেকালের পর তাঁর পূত্র ইমাম মাহদী হবে সর্বশেষ বারতম ইমাম ।
তাঁরা আল্লাহর হুজ্জাত বা জমিনের বুকে অকাট্য দলিল ।”

এই জবাব পেয়ে পরক্ষনেই ঐ হিহুদী লোকটি মহানবীর (সাঃ) নিকট ইসলাম ধর্ম গ্রহন করলেন ।
সূত্র – ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাত ,পৃ-৪৪১ (বৌরুত) / ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃ- ৬৯১-৬৯৪ ( লাহোর,উর্দু) / ফারায়েদ নি , খন্ড-২ , পৃ- ১৩৩ , ৩১২ / সিয়ারানীও আল ইয়াওয়াক্বিত ওয়াল জওয়াহীর , খন্ড- ৩ পৃ- ৩২৭ / ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত – পৃঃ-৪২৭ (বৈরুত) / ইবনে আরাবী – ইবক্বাউল ক্বাইয়্যিম-২৬৬ / অধ্যায়ে , মানাকেবে ইবনে শাহার আশুব,খঃ-১, পৃঃ-২৮২ / রাওয়ানে যাভেদ, খঃ-২, পৃঃ-৭২ / কিফায়া আল আসার, খঃ-৭, পৃঃ-৭; (পুরোনো প্রিন্ট) / কিফায়া আল আসার, পৃঃ-৫৩, ৬৯; (কোম প্রিন্ট) / গায়াতুল মারাম, খঃ-১০, পৃঃ-২৬৭; ইসবাতুল হুদা, খঃ-৩, পৃঃ-১২৩ ।

সু্প্রিয় পাঠক ,
দয়া করে খেয়াল করুন যে , একজন ইহুদী হয়েও লোকটি এই বিষয় নিশ্চিত ছিল যে , আল্লাহর বিধানে কখনই সমগ্র সৃষ্টিজগত এক মুহূর্তের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিনা হুজ্জাতে থাকতে পারে না ।
অর্থাৎ নবুয়ত পদ্বতির সমাপ্তির পর আল্লাহ কতৃক মনোনীত ইমামত পদ্বতি কেয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীতে বহাল আছে বা থাকবে ।
এবং সেই ইমামদের সংখ্যা হবে বারজন । এই বারজনের নাম পরিচয় সহ সকল কিছুই স্বয়ং মহানবী (সাঃ) বলে গেছেন ।
হজ্ব ফেরৎ সোয়ালক্ষ হাজী সাহাবাদের সম্মুখে গাদীর এ খুমের প্রান্তরে ইমামত পদ্বতির প্রথম ইমাম ও নবীজীর (সাঃ) ইন্তেকাল পরবর্তী সর্বপ্রথম উত্তরাধিকার ও স্থলাভিষিক্ত হিসাবে হযরত আলীকে (আঃ) সুনির্দিষ্টভাবে বলে গেলেন ।

নবীজীর (সাঃ) এইরকম প্রকাশ্য সুষ্পষ্ট ঘোষনার পরে হযরত আলী (আঃ) ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তিকে সর্বপ্রথম খলীফা হিসাবে মেনে নেওয়ার সামান্যতম সুযোগ থাকে কি ?
কি মনে হয় আপনার !

শেয়ার করুন