যেমন কর্ম তেমন ফল ।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ হলেন সমস্ত কিছুর সৃষ্টিকর্তা ।
তিনি শুধু সৃষ্টি করেই হাত গুটিয়ে বসে থাকেন নাই । সমগ্র সৃষ্টিজগত কিভাবে এবং কোন বিধানের অধীনে চলবে সেটাও পরিস্কার করে বলে দিয়েছেন ।
বিশেষ করে মানবজাতির ব্যাপারে আল্লাহ শুরু থেকেই বিশেষ লক্ষ এবং গভীর মনযোগ দিয়েছেন । কারন হল সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে মানবের সৃষ্টি হচ্ছে সর্বসেরা এবং সর্ব উৎকৃষ্ট সৃষ্টি ।
মানুষ অন্য সকল সৃষ্টি থেকে মেধা , চিন্তাশক্তি এবং বাহ্যিকভাবে অন্য সকল সৃষ্টি থেকে অধিক দৃষ্টিনন্দন ।

প্রিয় পাঠক ,
আজকের আলাপের মূল প্রসঙ্গ হচ্ছে –
সমগ্র বিশ্বে বিশেষ করে মুসলিম জাতির এতটা নিকৃষ্ট অবস্থা কেন ? মুসলিম জাতি কেনইবা সবথেকে অত্যাচারিত , নিগৃহীত এবং সর্বনিকৃষ্ট জাতিতে পরিনত হয়ে গেল ?
বর্তমান দুঃখজনক বাস্ববতা এটাই যে , বেশীরভাগ মুসলমান পশুপাখী থেকেও মর্যাদাহীন জাতিতে পরিনত হয়েছে । নির্মম সত্য এটাই যে , বর্তমানে গর্ব-অহংকার করার মত মুসলিম জাতির কিছুই নাই । অন্যের দেওয়া বিধিবিধান মোতাবেক মুসলিম জাতি পরিচালিত হচ্ছে ।
এমনকি ভারতীয় উপমহাদশের সর্ববৃহৎ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন খ্রীষ্টান পাদ্রীগন ! একটানা ৭৫ বছর ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থাসহ শরীয়তের সকল কিছুর দন্ডমুন্ডের কর্তাব্যক্তি ছিলেন খ্রীষ্টান পাদ্রীগন ।

আসুন – আত্মসমালোচনা করি ।
কেন মুসলিম জাতির এই অধঃপতন !

অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে মূল কারনটি বলছি ।
সমগ্র মানবজাতি বিশেষ করে মুসলিম উম্মাহ কেয়ামত পর্যন্ত মাথা উঁচু করে ভালভাবে চলতে পারে সেজন্য মহান আল্লাহ দুটি সিদ্বান্ত দিলেন ।

প্রথম সিদ্বান্ত –
রাসুলের (সাঃ) ইন্তেকাল পরবর্তী প্রথম ইমাম এবং খলীফা হিসাবে নির্বাচিত করলেন হযরত আলী আবু তালিবকে (আঃ) ।
কেয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মুসলিম উম্মাহর সার্বিক নেতৃত্বের জন্য হযরত আলীর (আঃ) সন্তানগন থেকে সর্বমোট বারজনকে ইমাম এবং খলীফা হিসাবে মনোনীত এবং নির্বাচিত করে দিলেন ।
এই নির্বাচন করলেন মহান আল্লাহ স্বয়ং নিজে ।
দ্বিতীয় সিদ্বান্ত –
ইন্তেকালের পূর্বে রাসুল (সাঃ) উপরে উল্লেখিত সিদ্বান্তটি খাতা-কলমে লিখিতভাবে লিখে দিতে চাইলেন । যাতে করে কেয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মুসলিম উম্মাহ রাখালবিহীন পথভ্রষ্ট ভেড়ার পালের মত না হয় ।

পাঠক ,
আপনার অবগতির জন্য জানানো হচ্ছে যে , মহান আল্লাহ কতৃক গৃহীত দুটি সিদ্বান্তকে চরমভাবে লংঘন করে মুসলিম উম্মাহ নিজেরাই নিজেদের নেতা নির্বাচন করে ফেললেন !
জঘন্য নিকৃষ্ট সর্বনাশা এই পদ্বতির সূত্রপাত হল রাসুলেরই (সাঃ) বেঈমান মুনাফিক কতিপয় ক্ষমতালোভী সহকর্মীর হাতে । ক্ষমতার স্বাদ কতইনা মধুর ।
মুসলিম জাতির চুড়ান্ত সর্বনাশের আতুরঘর হল – বনু সকীফা ।

মহান আল্লাহ সীমালংঘনকারী মুসলিম জাতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন ।
কারন সীমালংঘনকারী , বেঈমান , অকৃতজ্ঞ জাতিকে আল্লাহ কখনও পছন্দ করেন না ।
ফলে যা হবার তাই হল । যেমন কর্ম তেমন ফল ।
আল্লাহর অনুমতিহীন নেতৃত্বর জন্য মুসলিম উম্মাহর বর্তমান নিকৃষ্ট অবস্থার জন্য মুসলমানরা দায়ী ।

প্রিয় পাঠক ,
দুই চোখ দিয়ে দেখে নিন অকৃতজ্ঞ বেঈমান মুসলিম জাতির ময়না তদন্তের খতিয়ান ।

জগত সংসারে স্বাভাবিক একটা নিয়ম আছে যে , নিজ গোত্র , নিজ দল , নিজ ধর্মের লোকদের কাছ থেকেই সগোত্রীয় মানুষ সম্মান , শ্রদ্বা এবং ভালবাসা আশা করে ।
এতে দোষের কিছু নেই । এ আশা করাটা সে করতেই পারে । নিজের দলের মানুষদের কাছ থেকে সে এটা কামনা করতেই পারে । এবং এই কামনা করাটা তার প্রাপ্য অধিকারও বটে ।

কিন্ত হায় , আমার মজলুম আহলে বাইত (আঃ) !
কিন্ত হায় , আমার মজলুম আহলে বাইত (আঃ) !
মহান আল্লাহ স্বয়ং নিজে রাসুলের (সাঃ) পবিত্র রক্তজ বংশধর তথা পবিত্র আহলে বাইতগনের (আঃ) প্রতি সম্মান , ভালবাসা , মহব্বত , অনুসরন ও আনুগত্য করা বাধ্যতামূলক করে দিলেন সমগ্র সৃষ্টিজগত বিশেষ করে মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রতি ।
এ বিষয় পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্টভাবে আয়াত নাজিল করেছেন । এছাড়াও মহানবীর (সাঃ) অসংখ্য নির্দেশনামূলক বানী রয়েছে ।

কিন্ত হায় , আমার মজলুম আহলে বাইত (আঃ) !
কিন্ত হায় , আমার মজলুম আহলে বাইত (আঃ) !
“ – বল , আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোন পুরস্কার চাই না , শুধু আমার রক্তজ বংশধরদের প্রতি গভীর ভালবাসা ছাড়া – “ ।
সুরা – শুরা / ২৩ ।

মহান আল্লাহ কতৃক প্রদত্ত এই আদেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনেছিল মোবাহেলার ময়দানে অমুসলিম খ্রীষ্ট্রান সম্প্রদায় ।

পক্ষান্তরে ,
এবারে দয়া করে একটু জেনে নিন যে , নিজ গোত্রীয় মুসলিম উম্মত থেকে নবীজীর (সাঃ) পবিত্র আহলে বাইতগন (আঃ) কি পেলেন ?

মহানবীর (সাঃ) ইন্তেকালের পর বোধহয় দশদিনও পার হয় নাই ।
নবীকন্যা খাতুনে জান্নাত মা জননী ফাতেমা যাহরা (সাঃআঃ) সদ্য পিতৃবিয়োগে শোকে মুহ্যমান ।
শোকের তীব্র ধাক্কা তখনও কাটিয়ে উঠতে পারেন নাই ।

সদ্য ক্ষমতায় আসীন প্রথম খলীফা বাহাদুর নবীকন্যার বৈধ পৈত্রিক সম্পত্তি বাগে-ফাদাক রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাজেয়াপ্ত করলেন ।
সদ্য ক্ষমতায় আসীন প্রথম খলীফা বাহাদুরের প্রতি জোর করে বাইআত আদায় ব্যর্থ হয় নবীকন্যার পবিত্র গৃহে অগ্নিসংযোগ করে গর্ভস্থ সন্তানসহ নবীকন্যাকে হত্যা করা হল ।

প্রথম ইমাম আলীকে (আঃ) সেজদারত অবস্থায় বিষাক্ত তরবারী দিয়ে মসজিদে হত্যা করা হল পবিত্র রমজান মাসে ।
দ্বিতীয় ইমাম হাসানকে (আঃ) বিষ মিশ্রিত পানি পান করিয়ে হত্যা করা হল । এমনকি তাঁর পবিত্র লাশকে নানার পাশে দাফন করতে না দেওয়ার জন্য তাঁর জানাজাতে সত্তরটির অধিক তীর নিক্ষেপ করা হল ।
তৃতীয় ইমাম হোসেনকে (আঃ) ৭২ জন সঙ্গী সাথীসহ কারবালা প্রান্তরে প্রকাশ্য দিবালোকে জবাই করে হত্যা করা হল সম্পূর্ন পিপাসার্ত অবস্থায় ।
এভাবে মাত্র ২২০ বছরের ব্যবধানে মহানবীর (সাঃ) পবিত্র আহলে বাইতগনের (আঃ) পবিত্র ১১ জন ইমামগনকে (আঃ) হত্যা করা হল ।

জঘন্য এই সকল নারকীয় নির্মম হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে নবীজীর (সাঃ) কলেমা পড়নেওয়ালা মুসলিম উম্মত কতৃক ।

পাঠক ,
পৃথিবীতে একটা বিধান চালু আছে যে , যেমন কর্ম তেমন ফল ।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ঠিক এ কথাটি বলেন যে , সকলকেই তার কৃত কর্মের প্রতিফল দেয়া হবে । কারও উপর সামান্যতম জুলুম বা অন্যায় করা হবে না ।

পাঠক ,
হিসেবটা এবারে নিজেই মিলিয় নিন ।
যে জাতি বা সম্প্রদায় মহানবীর (সাঃ) পবিত্র আহলে বাইতগনকে (আঃ) সম্মান প্রদর্শন করল তারাই আজকে সমগ্র পৃথিবীতে জ্ঞান , বিজ্ঞান , শান-শওকত , মান-ইজ্জত সহকারে জগতে বিরাজ করছে । তারা শুধু বিরজমান নয় তার সমগ্র জগত শাসন ও পরিচালনাও করছেন বটে ।

পক্ষান্তরে ,
যে জাতি বা যে সম্প্রদায় মহানবীর (সাঃ) পবিত্র আহলে বাইতগনকে (আঃ) অপমান , অপদস্ত , নিগৃহীত ও হত্যা করতে কুন্ঠিত হল না – সে জাতি যুগ যুগ ধরে সর্বনিম্ন শ্রেনীর অন্তর্ভুক্ত হয় পৃথিবীতে কোন রকমে বেঁচে আছে ।
জ্ঞান বিজ্ঞান তো দূরের কথা মাটির নীচ থেকে তেল উঠাচ্ছে আর ভোগ বিলাসে মত্ত হয়ে আছে ।
আরেক দল রাস্তাঘাটে কুকর বিড়ালের মত যখন তখন গুলি খেয়ে বেঘোরে প্রান হারাচ্ছে ।
পৃথিবীতে যতগুলো মানবজাতি আছে তম্মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের বর্তমান অবস্থা সবচেয়ে করুন ও মর্মান্তিক ।

যেমন কর্ম তেমন ফল ।

 

শেয়ার করুন