রাসুলের (সাঃ) ইন্তেকাল পরবর্তী ইমামত এবং খেলাফত ।

আল হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন ।
সেই মহান সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া করছি যিনি তাঁর অগনিত নেয়ামত সমূহের মধ্যে থেকে অন্যতম নেয়ামত হিসেবে “ইমামত” পদ্বতির মত পবিত্র একটি নেয়ামত আমাদের দান করেছেন যার মাধ্যমে পথহারা পথিক সঠিক পথের দিশা পায় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে ইহকাল এবং পরকালে চিরমুক্তি পায় ।
প্রিয় পাঠক ,
এখানে ছোট একটি প্রশ্নের অবসান করা দরকার ।
অনেকেই মনে করেন যে , খলীফা ও ইমাম ভিন্ন জিনিষ । অনেকে এটাও মনে করেন যে , ইহজগতে মানুষকে শাসন করার জন্য খেলাফাত পদ্বতির প্রয়োজন এবং ধর্মীয় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ইমামত পদ্বতির প্রয়োজন আছে ।
কিন্তু প্রকৃত বিষয় হচ্ছে উভয়ই এক ও অভিন্ন । আল্লাহর নির্দেশে রাসূলের (সাঃ) ঘোষিত প্রতিনিধিগণই হলেন খলীফা এবং একইসাথে সমগ্র মানবজাতির ইমাম বা নেতা ।
অর্থাৎ আমাদের নেতা বা ইমামগণ হলেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাঃ) প্রতিনিধি বা খলীফা । কাজেই দেখা যাচ্ছে যে , রাসূলের (সাঃ) রেখে যাওয়া খেলাফত অতি অবশ্যই ইমামতের মধ্যেই অন্তরর্নিহিত !
এর জন্য ভিন্ন কোন চিন্তা বা ধারনা তৈরী করা হলে সেটা হবে ব্যক্তি , গোষ্ঠী বা মানুষের দ্বারা সৃষ্টিকৃত যা পবিত্র কোরআন ও হাদিস পরীপন্থী এবং মোটেও আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) কতৃক অনুমোদিত ও স্বীকৃত নয় ।
নিম্নে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাতে মনযোগ দেওয়ার জন্য বনীত আবেদন করছি ।
সর্বশক্তিমান আল্লাহর চিরন্তন বিধান হচ্ছে , মানবজাতিকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য যুগে যুগে তাঁর প্রতিনিধি বা খলীফা প্রেরণ করা । এই ধারা নবী রাসূল আগমনের মাধ্যমে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) পর্যন্ত জারী ছিল ।
“ – এটাই আল্লাহর বিধান যা পূর্ব থেকে চলে আসছে এবং তোমরা কখনই পাইবে না আল্লাহর বিধানে কোন পরিবর্তন — “ ।
সুরা – ফাতহ / ২৩ ।
পবিত্র কোরআনের আলোকে যদি আমরা এ বিষয়ে চিন্তা করি তাহলে দেখতে পাব যে , মুসলমানদের জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ।
মহান আল্লাহ হযরত ইব্রাহীমকে (আঃ) সমগ্র মানবজাতির ইমাম বা নেতা নিযুক্ত করেছিলেন ।
“ – এবং যখন ইবরাহীমের প্রভু তাকে পরীক্ষা করলেন সুনিদিষ্ট কিছু কথা দিয়ে এবং সেগুলো সে সম্পাদন করল , তিনি বললেন , “আমি তোমাকে মানবজাতির ইমাম বানিয়ে দিচ্ছি ।” সে বলল , “আর আমার বংশধর থেকেও?” তিনি বললেন , আমার অঙ্গীকার জালিমদের নিকট পৌঁছায় না —– “ ।
সুরা – বাকারা / ১২৪ ।
হযরত ইব্রাহিম (আঃ) একজন রেসালাত প্রাপ্ত নবী ও রাসুল হওয়া সত্ত্বেও আরও কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে কৃতকার্য হয়ে ইমামতের স্তরে পৌঁছেছেন ! এবং এ ইমামতের ধারা কেয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে মহান আল্লাহ নিজে ঘোষনা বা ওয়াদা) করেছেন ।
তবে হ্যা ! হযরত ইব্রাহিমের (আঃ) বংশের জালিমদের বেলায় ইমামতের ধারা প্রযোজ্য নহে ।
একদিকে আল্লাহ ওয়াদা দিচ্ছেন অপরদিকে তাঁর ওয়াদার নিশ্চয়তা ও দৃঢ়তা গ্রহণকল্পে ঘোষণা করে জানিয়ে দিচ্ছেন ,
” — সুতরাং তুমি আল্লাহ সম্পর্কে কখনই এইরুপ ধারনা কর না যে , তিনি তাঁর রাসুলদের সাথে সম্পাদিত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন । নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী , প্রতিশোধ গ্রহণকারী —- ” ।
সুরা – ইবরাহীম / ৪৭ ।
এখানে উল্লেখ্য যে , নবী-রাসুলগনের মনোনয়ন এবং নির্বাচনের ক্ষেত্রে মানুষের সামান্যতম এখতিয়ার নেই । ঠিক একইভাবে ইমামগনের মনোনয়ন এবং নির্বাচনের ক্ষেত্রেও মানুষের সামান্যতম এখতিয়ার নেই । ইমামত মনোনয়ন এবং নির্বাচনের বিষয়টি সম্পূর্ণই আল্লাহর একক ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল ।
তাই এ প্রসঙ্গে আল্লাহ অত্যন্ত পরিস্কার করে বলেন —
” —- তোমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন ও যাকে ইচ্ছা তাকেই মনোনীত করেন । এতে তাদের কোন ক্ষমতা নেই —– ” ।
সুরা – কাসাস / ৬৮ ।
“ – আমরা তাদেরকে ইমাম নির্বাচিত করেছিলাম আমাদের আদেশ অনুসারে হেদায়েত করতেন — “ ।
সুরা – আম্বিয়া / ৭৩ ।
“ – এবং তাদের মধ্যে আমরা নিয়োগ দিয়েছিলাম ইমামদের যারা আমাদের আদেশে পথ দেখায় — “ ।
সুরা – সাজদাহ / ২৪ ।
তারপর আল্লাহ এরশাদ করেন ,
” —- এটাই আল্লাহর পথ ! স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাকেই তিনি এর দ্বারা সৎ পথে পরিচালিত করেন…..। “
সুরা – আনআম / ৮৮ ।
মহান আল্লাহ সমগ্র মানবজাতিকে সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়ার জন্য যুগে যুগে নবী-রাসুল প্রেরন করেছেন । যেহেতু তাঁদের প্রত্যাগমণের ধারার সমাপ্তি ঘটেছে সেহেতু মানবজাতি কি অন্ধকার পথে থাকবে ?
সহজ জবাবটি হচ্ছে — কখনই নহে ।
আল্লাহ বলেন ,
” — এরা সেসব লোক যাদের আমরা গ্রন্থ , নির্দেশ ও নবুয়ত দান করেছিলাম । এখন যদি এসব লোক (কাফেরগন) নবুয়ত অস্বীকার করে তবে আমরা এই বিষয়ের দায়িত্ব এমন এক সম্প্রদায়ের উপর ন্যস্ত করেছি যারা সেটাকে অবিশ্বাস করে না —– ” ।
সুরা – আনআম / ৮৯ ।
পবিত্র কোরআনে বর্নিত এই আয়াতে এই বিশেষ বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট তা হল , নবুয়তের ধারা শেষ হওয়ার পরে পরবর্তী কোন এক জাতির প্রতি ইঙ্গিত করা হচ্ছে যারা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারণ করা । এই বিষয়টি আমলে নিয়ে সার্বিক দিক বিবেচনা করলে ইমামতের আনুগত্য ছাড়া অন্য কিছুই দৃশ্যমান হয় না ।
যা নিম্নে খুবই সংক্ষেপে আলোচনা করা হচ্ছে ।
নবুয়ত ধারার সমাপ্তির পরে সমগ্র মানবজাতির হেদায়েত ও পরিচালনার জন্য আল্লাহ্ কাদেরকে নির্বাচন করেছেন এ ব্যাপারে আল্লাহ বলছেন ।
“ — নিশ্চয়ই আল্লাহ মনোনীত করেছেন আদম ও নূহকে এবং ইবরাহীমের বংশকে এবং ইমরানের বংশকে সমস্ত জাতির উপর —” ।
সুরা – আলে ইমরান / ৩৩ ।
পবিত্র কোরআন ও ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে যে , হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) পর্যন্ত যত নবী-রাসূল এসেছেন , সবাই ইব্রাহীমের (আঃ) পবিত্র বংশ থেকেই এবং কেয়ামত পর্যন্ত যত হাদী আসবেন তাঁরাও ইব্রাহীম (আঃ) তথা মুহাম্মদের (সাঃ) পবিত্র বংশ হতে , এটা পবিত্র কোরআনেরই চুড়ান্ত সিদ্বান্ত ।
সুতরাং নবুয়ত ধারা সমাপ্তির পরে ইমামত একমাত্র রাসুলের (সাঃ) পুতঃপবিত্র বংশধরদের জন্য জন্যই মনোনীত ।
পূর্বোক্ত আলোচনা সমূহের ভিত্তিতে এটাই প্রতীয়মান হয় যে , বিশ্বনবীর (সাঃ) ইন্তেকালের পর ইসলামী উম্মতের মাঝে আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনীত ইমাম বা নেতার অস্তিত্ব ছিল এবং থাকবে ।
এ ব্যাপারে বিশ্বনবী (সাঃ) থেকে অসংখ্য হাদিস রয়েছে যার কতিপয় হাদিস নিম্নে তুলে ধরা হল ।
যাবের বিন সামরাতেন বলেন , রাসুলকে (সাঃ) বলতে শুনেছি যে , “বারজন” প্রতিনিধি আর্বিভাবের পূর্ব পর্যন্ত এই অতীব সম্মানীত ধর্মের সমাপণ ঘটবে না । যাবের বললেন , জনগণ তাকবির ধ্বনিতে গগন মুখরিত করে তুলল । অতঃপর রাসুল (সাঃ) আস্তে কিছু কথা বললেন ।
আমি আমার পিতাকে বললাম , কি বললেন ?
পিতা বললেন , রাসুল (সাঃ) বললেন , তারা সবাই “কুরাইশ বংশের” হবেন ।
সূত্র — সহীহ আল বুখারী , খন্ড -৬, হাদিস -৬৭১৬- (আধুনিক) / সহীহ আল বুখারী, খন্ড-৬, হাদিস -৩২৪২-(ইসলামিক ফাউন্ডেশন) / সহীহ আল বুখারী, খন্ড-৬, হাদিস-৭২২২-আহলে হাদিস লাইব্রেরী থেকে প্রকাশিত / সহীহ আল মুসলিম, খন্ড-৫, হাঃ-৪৫৫৪, ৪৫৫৫, ৪৫৫৭, ৪৫৫৮, ৪৫৫৯- (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) / আবু দাউদ, খঃ-৫, হাঃ-৪২৩০, ৪২৩১-ইঃ ফাঃ; তিরমিজি, খঃ-২, পৃঃ-৪৫, মুসনাদে আহম্মদ খঃ-১, পৃঃ-৩৯৮, খঃ-৫, পৃঃ-৮৬, ১০৫-আরবী; মুয়াদ্দাতুল কুরবা, পৃঃ-৯৭, আরজাহুল মাতালেব, পৃঃ-৫৮৮-উর্দু; মুস্তাদারাক হাকেম, খন্ড-৩, পৃঃ-৬১৭-১৮-ভারত / তারিখে বাগদাদ, খন্ড-১৪, পৃঃ-৩৫৩, হাদিস-৭৬৭৩-আরবি / মুনতাখারা কানজুল উম্মাল, খন্ড-৫, পৃঃ-৩১২-হায়দারাবাদ / তারিখ আল খোলাফা, পৃঃ-১০-আরবি / আস সাওয়ায়েকে আল মুহরেকা, ১৮৯-আরবি / ইয়া নাবিয়ুল মুয়াদ্দাত, পৃঃ-৬৯৭-উর্দু / কানজুল উম্মাল, খন্ড-১২, পৃঃ-১৬৫, হাদিস-৩৪৫০১ ।
রাসুল (সাঃ) বলেন , ‘আমার পরে “১২জন” ইমাম পর্যন্ত ইসলাম সমুন্নত থাকবে এবং তারা “কুরাইশ” বংশ থেকে’ ।
সূত্র – সহীহ আল বুখারী, হাদিস-৬৭১৬; ৬৭৯৬ ।
হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) নবী (সাঃ) এর বিশিষ্ট সাহাবী বর্ণনা করেন যে , আমি মহানবীকে (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলাম যে , আপনার ইন্তেকাল পরবর্তীকালে কতজন নেতা (ইমাম) হবেন ?
নবী (সাঃ) বললেন যে, “বনী ইসরাইলের খতিবদের ন্যায় বারোজন হবে”। সুত্র – ইয়া নাবিয়ুল মুয়াদ্দাত, পৃঃ-৪১৫ / সাওয়ায়েকে মুহরেকা, পৃঃ-১৩, (মিশর) / মুয়াদ্দাতুল কুরবা, পৃঃ-৯৬ ।
“আমার পর বারোজন নেতা হবেন । তাঁরা সবাই বনি হাশেমগণের মধ্যে হতে হবেন” ।
নবী (সাঃ) আবার অন্য এক হাদিসে বলেছেন যে, আমার পর “বারজন নেতা হবেন” তাঁরা সবাই “বনি হাশিমের” মধ্য হতে হবেন ।
সুত্র – ইয়া নাবিয়ুল মুয়াদ্দাত, পৃঃ-৪১৬ ( উর্দু) ।
অন্য একটি হাদিস – সালমান ফারসী (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে , তিনি বলেন , এমতাবস্থায় রাসুলের (সাঃ) নিকট উপস্থিত হলাম যে যখন হোসাইন (আঃ) তাঁর ঊরুর উপর ছিল এবং তিনি তাঁর চোখ ও ওষ্ঠতে চুম্বন দিচ্ছেন আর বলছেন যে , তুমি সাইয়্যেদের সন্তান সাইয়্যেদ এবং তুমি ইমামের সন্তান ইমাম , তুমি ঐশী প্রতিনিধির সন্তান ঐশী প্রতিনিধি । আর তুমি নয়জন ঐশী প্রতিনিধিরও বাবা , যাদের নবম ব্যক্তি হলেন কায়েম (ইমাম মাহদী) ।”
সূত্র – ইয়ানাবী-উল্-মুয়াদ্দাহ্, (সুলাইমান বিন ইব্রাহীম কান্দুযি) ৭ম মুদ্রণ, ৩০৮ নং পৃষ্ঠা ।
হাদিসে এসেছে নবী (সাঃ) বলেছেন যে , “দ্বীন ইসলাম ধ্বংস হবেনা কিয়ামত পর্যন্ত অথবা বারজন খলীফার আগমন পর্যন্ত , তাদের মধ্যে সর্বপ্রথম হচ্ছেন আলী ইবনে আবু তালিব অতঃপর হাসান তারপর হোসাইন (আঃ) তারপর মুহাম্মদ ইবনে আলী , আলী ইবনে মুহাম্মদ , হাসান ইবনে আলী এবং তাদের সর্ব শেষ হচ্ছেন আল মাহদী (আঃ) ”।
সূত্র — সহীহ আল মুসলিম , ৬ষ্ঠ খণ্ড , পৃ- ৩-৪ / সহীহ আল বুখারী , ৪র্থ খণ্ড , পৃ- ১৫৬ / ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাহ , ১ম খণ্ড , পৃ- ৩৪৯ / সহীহ আত তিরমিযি ৩য় খণ্ড , পৃ- ৩৪২ / সুনানে আবু দাউদ , ৩য় খণ্ড , পৃ- ৩০২ / কানযূল উম্মাল , ১২তম খণ্ড ,পৃ- ১৬৫ ।
এই প্রসঙ্গে রাসুল (সাঃ) আরও বলেছেন —
প্রসিদ্ব আহলে সুন্নাত এর পন্ডিত শায়খ সুলাইমান কান্দুজী হানাফী তুর্কি কতৃক রচিত তার প্রসিদ্ব গ্রন্থ ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত নামক গ্রন্থে বর্ননা করেছেন যে ,
নাছাল নামক একজন হিহুদী মহানবীর (সাঃ) নিকট আরজ করলেন যে ,
ইয়া রাসুল (সাঃ) ! আপনাকে কয়েকটি প্রশ্ন করতে চাই যা কিছুদিন ধরে আমার মনকে অশান্ত রাখছে । কথা দিচ্ছি , আপনার জবাব যদি সঠিক হয় তাহলে আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করব ।
নবী (সাঃ) বললেন , হে আবু আম্মারা , তুমি প্রশ্ন করে যাও , কোন সমস্যা নাই ।
অনুমতি পেয়ে ঐ ব্যক্তি প্রশ্ন শুরু করল ।
প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে সে খুবই সন্তষ্ট হল এবং বলল যে , আপনি খুবই সঠিক জবাব দিয়েছেন ।
প্রশ্নের এক পর্যায় সে জিজ্ঞাসা করল যে , আমাকে বলে দিন , আপনার ইন্তেকালের পরে কে আপনার উত্তরাধিকারী হবে ?
কেননা আজ পর্যন্ত কোন নবী বা রাসুল তাঁর পরবর্তী উত্তরসূরীর নাম পরিচয় না বলে এই পৃথিবী ত্যাগ করেন নাই । যেমন আমাদের নবী হযরত মুসা (আঃ) বলে গেছেন যে , তাঁর অবর্তমানে হযরত ইউসা বিন নুন হলেন তাঁর উত্তরসূর বা স্থলাভিষিক্ত ।
মহানবী (সাঃ) বললেন যে , “আমার পরে আমার উত্তরসূরী বা স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে আমার ভাই হযরত আলী ইবনে আবু তালিব এবং তাঁর পর আমার দুই সন্তান হাসান ও হোসাইন , অতঃপর কেয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট নয়জন ইমাম হোসাইন এর বংশ থেকে আগমন করবেন ।
লোকটি বলল , “ইয়া মুহাম্মাদ (সাঃ) , দয়া করে অবশিষ্ট নয়জনের নাম বলে দিন” ।
নবীজী (সাঃ) বললেন যে ,
“হোসাইনের ইন্তেকালের পর তাঁর পুত্র জয়নুল আবেদীন হবে ,
জয়নুল আবেদীনের অন্তধানের পর তাঁর স্বীয় পুত্র মোহাম্মাদ বাকের হবে ,
মোহাম্মাদ বাকেরের ইন্তেকালের পর তাঁর পুত্র জাফর সাদিক হবে ,
জাফর সাদিকের তিরোধানের পর তাঁর পুত্র মুসা কাজেম হবে ,
মুসা কাজেমের ইহলোক ত্যাগের পর তাঁর পুত্র আলী রেজা হবে ,
আলী রেজার ইন্তেকালের পর তাঁর পূত্র মুহাম্মাদ তাক্বী হবে ,
মুহাম্মাদ তাক্বীর তিরোধানের পর তাঁর পূত্র আল নাক্বী হবে ,
আল নাক্বীর ইহলোক ত্যাগের পরে তাঁর পূত্র হাসান আসকারী হবে ,
হাসান আসকারীর ইন্তেকালের পর তাঁর পূত্র ইমাম মাহদী হবে সর্বশেষ বারতম ইমাম ।
তাঁরা আল্লাহর হুজ্জাত বা জমিনের বুকে অকাট্য দলিল ।”
এই জবাব পেয়ে পরক্ষনেই ঐ হিহুদী লোকটি মহানবীর (সাঃ) নিকট ইসলাম ধর্ম গ্রহন করলেন ।
সূত্র – ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাত ,পৃ-৪৪১ (বৌরুত) / ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃ- ৬৯১-৬৯৪ ( লাহোর,উর্দু) / ফারায়েদ নি , খন্ড-২ , পৃ- ১৩৩ , ৩১২ / সিয়ারানীও আল ইয়াওয়াক্বিত ওয়াল জওয়াহীর , খন্ড- ৩ পৃ- ৩২৭ / ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত – পৃঃ-৪২৭ (বৈরুত) / ইবনে আরাবী – ইবক্বাউল ক্বাইয়্যিম-২৬৬ / অধ্যায়ে , মানাকেবে ইবনে শাহার আশুব,খঃ-১, পৃঃ-২৮২ / রাওয়ানে যাভেদ, খঃ-২, পৃঃ-৭২ / কিফায়া আল আসার, খঃ-৭, পৃঃ-৭; (পুরোনো প্রিন্ট) / কিফায়া আল আসার, পৃঃ-৫৩, ৬৯; (কোম প্রিন্ট) / গায়াতুল মারাম, খঃ-১০, পৃঃ-২৬৭; ইসবাতুল হুদা, খঃ-৩, পৃঃ-১২৩ / নাযালুল আবরার , পৃঃ ১৭৪-১৭৫ / ইরাক থেকে মুদ্রিত , নুরুল আবছার / ফুসুলুল মুহিম্মা / মাতালিবুস সুউল ফী মানাকিবে আলে রাসূল, পৃঃ ৮৯; মিশর থেকে প্রকাশিত / ফারায়িদুস সিমতাইন ।
সুপ্রিয় পাঠক ,
“– স্মরন কর , সেদিনের ( কিয়ামত) কথা , যখন আমি সকল মানুষকে তাদের ইমামসহ আহবান করিব –” ।
সুরা – বনী ঈসরাইল / ৭১ ।
মহান আল্লাহ কতৃক নির্বাচিত ইমামত পদ্বতির প্রসংঙ্গে মহানবী (সাঃ) বলেন যে , “যে ব্যক্তি তার নিজের যুগের ইমামের মারফত বা না চিনে মৃত্যুবরন করল , সে জাহেলিয়াতেের মৃত্যুবরন করল” ।
সূত্র – সহীহ মুসলিম , খন্ড-২ ,পৃ- ১২৮ / মুসনাদে হাম্বল , খন্ড-৪ , পৃ-৯৬ / সহীহ আল মুসলিম , হাদিস আরবী-১৮৫১ , বাংলা-৪৬৪১ / সহীহ ইবনে হাব্বান , জামেয়া বাইনা সহীহ / সহীহ মুসলিম , খন্ড – ৩ , হাদিস – ১৮৫১ (লেবানন) / কানজুল উম্মাাল , খন্ড – ১ , পৃ- ১০৩ / ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃ- ১৮৯ (উর্দ্দু) / মাজমা আজ জাওয়াইদ , খন্ড – ৫ , পৃ- ২১৮ / তাফসীরে ইবনে কাসির , খন্ড – ১ , পৃ- ৫১৭ (মিশর) / আস সুনান আল কুবরা , খন্ড – ৮ , পৃ- ১৫৬ / আল মুসনাদ , খন্ড – ৪ , পৃ- ৯৬ (মিশর) / জাওয়াহির আল মুদিয়া , খন্ড – ২ , পৃ- ৪৫৭ / শারাহ আল মাকাসিদ , খন্ড – ২ , পৃ- ২৭৫ / হিলিয়াতুল আউলিয়া , খন্ড – ৩ , পৃ- ২২৪ / মারেফাতে ইমামত ও বেলায়েত , পৃ- ১৫৬ ।
১২ ইমাম সম্পর্কে রাসুলের (সাঃ) যে হাদিসটি বিস্তারিতভাবে পাওয়া যায় , ষষ্ঠ ইমাম সাদেক (আঃ) থেকে স্পষ্ট বর্ণিত হয়েছে ।
তিনি সালমান ফার্সি (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে , রাসূল (সঃ) বলেছেন ,
“আমি রাসুলের (সাঃ) কাছে উপস্থিত হলাম , তিনি আমার দিকে তাকালেন এবং বললেন , ‘হে সালমান , আল্লাহ কোন নবী বা রাসুলকে পাঠান না যদি তার সাথে থাকে ১২ জন’।
‘ইয়া রাসুলুল্লাহ , আমি তা দুই কিতাবের লোকদের কাছ থেকে জেনেছি’।
‘হে সালমান , তুমি কি আমার ১২ জন সর্দারকে চেনো , যাদেরকে আল্লাহ আমার পরে ইমাম হিসেবে নির্বাচন করেছেন ?’
‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) ভাল জানেন ।’
‘হে সালমান , আল্লাহ আমাকে সৃষ্টি করেছেন পবিত্রতম আদি নুর থেকে এবং আমাকে ডাকলেন এবং আমি তার আদেশ মানলাম ।
এরপর তিনি আলীকে (আঃ) আমার নুর থেকে সৃষ্টি করলেন এবং তিনি তাকে ডাকলেন এবং সে আদেশ মানলো ।
আমার নুর ও আলীর নুর থেকে তিনি সৃষ্টি করলেন ফাতিমাকে (সাঃআঃ) । তিনি তাকে ডাকলেন এবং সে আদেশ মানলো ।
আমার , আলীর (আঃ) ও ফাতিমার (সাঃআঃ) নূর থেকে সৃষ্টি করলেন আল হাসান (আঃ) ও আল হোসাইনকে (আঃ) ।
তিনি তাদের ডাকলেন এবং তাঁরা তাঁর আদেশ মানলো ।
আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর ৫টি নাম থেকে নাম দিয়েছেন ।
আল্লাহ হলেন আল মাহমুদ (প্রশংসিত) এবং আমি মুহাম্মাদ (প্রশংসার যোগ্য) ।
আল্লাহ হলেন আল আলী (উচ্চ) এবং এ হলো (আঃ) যে উচ্চ প্রশংসনীয় ,
আল্লাহ হলেন ‘আল ফাতির যিনি শুন্য থেকে সৃষ্টি করেন এবং এ হল ফাতিমা (সাঃআঃ) ।
আল্লাহ হলেন তিনি যার কাছে আছে হাসান অন্যের জন্য কল্যান এবং এ হল হাসান (আঃ) ।
আল্লাহ হলেন মুহাসসিন পরম সুন্দর এবং এ হল হুসাইন (আঃ) ।
তিনি ৯ জন ইমামকে সৃষ্টি করলেন আল হুসাইনের (আঃ) নুর থেকে এবং তাদেরকে ডাকলেন এবং তারা তাঁর আদেশ মানলো ।
আল্লাহ উঁচু আকাশ , বিস্তৃত পৃথিবী , বাতাস , ফেরেশতা ও মানুষসহ সমগ্র সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করার পূর্ব থেকেই আমরা ছিলাম নূর । যারা তাঁর প্রশংসা করত , তাঁর কথা শুনতো এবং তাঁকে মেনে চলতো ।’
‘ইয়া রাসুলুল্লাহ (সঃ), আমার বাবা ও মা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক , ঐ ব্যক্তির জন্য কি আছে যে এ ব্যক্তিদের, সেভাবে স্বীকৃতি দেয় যেভাবে তাঁদের স্বীকৃতি দেয়া উচিত ?’
‘হে সালমান , যেই তাদের স্বীকৃতি দেয় যেভাবে দেওয়া উচিত এবং তাঁদের উদাহরন অনুসরন করে , তাঁদের সাথে বন্ধুত্ব রাখে এবং তাঁদের শত্রুদের কাছ থেকে মুক্ত থাকে , মহান আল্লাহর শপথ , সে আমাদের একজন । সে সেখানে ফেরত আসবে যেখানে আমরা ফেরত আসবো এবং সে সেখানে থাকবে যেখানে আমরা আছি ।’
‘ইয়া রাসুল (সাঃ) ! তাঁদের নাম ও বংশধারা জানা না থাকলে কি বিশ্বাস আছে ?’
‘না , সালমান ।’
‘হে আল্লাহর রাসুল, আমি তাঁদের কোথায় পাব ?’
‘তুমি ইতিমধ্যেই আল হুসাইনকে (আঃ) জেনেছো , এরপর আসবে ইবাদাতকারীদের সদার আলী ইবনুল হুসাইন (যায়নুল আবেদীন) (আঃ), এরপর তার পুত্র মুহাম্মাদ ইবনে আলী (আঃ)-পূর্বের ও পরের , নবী ও রাসুলদের জ্ঞান বিদীনকারী (আল-বাক্কির) ।
এরপর জাফর ইবনে মুহাম্মাদ, আল্লাহর সত্যবাদী জিহবা (আল সাদিক) ।
এরপর মুসা ইবনে জাফর (আঃ) , যে আল্লাহর ধৈযের মাধ্যমে তার রাগকে নিশ্চুপ রেখেছে (আল কাযিম) ।
এরপর আলী ইবনে মুসা (আঃ) , যে আল্লাহর গোপন বিষয়ে সন্তুষ্ট আছে (আল রিদা) ।
এরপর মুহাম্মাদ ইবনে আলী (আঃ) , আল্লাহর সৃষ্টির মাঝ থেকে নির্বাচিত জন (আল মুখতার) ।
এরপর আলী ইবনে মুহাম্মাদ (আঃ) , যে আল্লাহর দিকে পথ প্রদর্শক (আল হাদী) ।
এরপর আল হাসান ইবনে আলী (আঃ) , যে নিশ্চুপ-আল্লাহর গোপন বিষয়ের বিশ্বস্ত পাহারাদার (আল আসকারী) ।
এরপর মিম হা দাল (মুহাম্মাদ) , যাকে ডাকা হয় ইবনে আল হাসান (আঃ) যে ঘোষক আল্লাহর অধিকার প্রতিষ্ঠিত করে ।’
সালমান (রাঃ) বলেন , ‘আমি কাঁদলাম , এরপরে বললাম , ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমার জীবন তাদের সময় পযন্ত দীঘায়িত হোক ।’
রাসুল (সাঃ) বললেন , হে সালমান , এটি তেলাওয়াত করে নাও —
” — অতঃপর যখন প্রতিশ্রুত দ্বয়ের প্রথমটির সময় আসন্ন হবে তখন আমরা তোমাদের বিরুদ্বে আমাদের কতক কঠোর শক্তিশালী বান্দাদের প্রেরন করব এবং তারা তোমাদের গৃহসমূহে তোমাদের তন্ন তন্ন করে খুজবে এবং এ প্রতিশ্রুতি পূর্ন হওয়া অবশ্যস্ভাবী । অতঃপর তোমাদের জন্য পুনরায় তাদের উপর আক্রমন করার ক্ষমতা ফিরিয়ে দেব এবং ধন সম্পদ ও পুত্র সন্তান দ্বারা তোমাদের সহায়তা করব এবং জনসংখ্যায় তোমাদের অধিক করব —- ” ।
সুরা – বনী ইসরাঈল / ৫ , ৬ ।
সালমান (রাঃ) বললেন , ‘আমি অনেক কাঁদলাম, এবং আমার আকাঙ্ক্ষা প্রচন্ড হয়ে দাঁড়ালো । আমি বললাম , ইয়া রাসুলাল্লাহ , এটি কি আপনার কাছ থেকে একটি প্রতিশ্রুতি ?’
‘হ্যাঁ , তাঁর শপথ যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন , এটি একটি প্রতিশ্রুতি আমার , আলীর , ফাতিমার , আল-হাসান , আল-হুসেইন এবং আল-হুসেইনের বংশ থেকে ৯ জন ইমামদের কাছ থেকে তোমার জন্য এবং তাদের জন্য যারা আমাদের সাথে আছে এবং যাদের প্রতি যুলুম করা হয়েছে ।
যে তার বিশ্বাসে সত্যিকারভাবে আন্তরিক , তাহলে আল্লাহর শপথ সালমান , ইবলিস ও তার বাহিনীগুলো আসুক । যার আছে সত্যিকার আবিশ্বাস সে শাস্তি পাবে প্রত্যাঘাত ও নির্যাতন এবং উত্তরাধীকারের (অন্যদের দ্বারা) মাধ্যমে। তোমার রব কারও উপরে যুলুম করবেন না ।
এই আয়াতে বলা হয়েছে —
” —- আর আমরা চাই যাদেরকে দেশে হীনবল (অসহায়) করে রাখা হয়েছিল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করি ও তাদেরকে নেতা নিযুক্ত করি এবং তাদেরকে (সেই দেশের) উত্তরাধিকারী করি এবং তাদের পৃথিবীতে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করি এবং ফিরআউন , হামান ও তাদের বাহিনীকে যা তারা আশংকা করত তা দেখিয়ে দেই —– ।”.
সুরা – কাসাস / ৫ , ৬ ।
সালমান (রাঃ) বলেন , আমি আল্লাহর রাসুলের (সাঃ) কাছ থেকে বিদায় নিলাম সম্পুন ভ্রুক্ষেপহীন হয়ে ।
কিভাবে সালমান মৃত্যুর সাথে দেখা করবে অথবা কীভাবে মৃত্যু তার সাথে দেখা করবে”।
সূত্র – মিসবাহুস শারিয়াহ, লেখক — ইমাম জাফর সাদেক (আঃ) ।
আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত এই ইমামতের ধারা আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় প্রদান করা হয়েছিল যা ইতঃপূর্বে কোন নবী রাসূলের ক্ষেত্রেও হয়নি । সাধারণত সকল নবী রাসূলগণই তাদের পরিচয় সম্পর্কে তাঁরা নিজেরাই নিজেদের পরিচয় ব্যক্ত করেছেন ।
কিন্তু ইমামতের বেলায় ভিন্ন ।
হজ্ব ফেরৎ লক্ষাধিক হাজী সাহাবাগনকে সাথে নিয়ে গাদীরে খুম নামক স্থানে পৌঁছালে আল্লাহ রাসূলের (সাঃ) প্রতি কঠোর হুশিয়ারীমূলক নির্দেশ নাযিল করে সূরা মায়েদার ৬৭ নং আয়াতে বলেন —
“ – হে রাসুল , পৌঁছে দাও যা তোমার কাছে অবতীর্ন হয়েছে তোমার প্রভুর কাছ থেকে এবং যদি তুমি তা না কর , তুমি তাঁর রেসালতই পৌঁছে দাও নি এবং আল্লাহ তোমাকে জনতার হাত থেকে রক্ষা করবেন । নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফের দলকে পথ দেখান না —- “ ।
সুরা – মাইদাহ / ৬৭ ।
উক্ত আয়াতে এমন একটি নির্দেশ পৌছাঁনোর কথা বলা হচ্ছে যা না পৌছাঁলে রাসূলের (সাঃ) রিসালাত-ই বৃথা !
কারন , ঐ নির্দেশটি রেসালাতের বিনিময়যোগ্য !
আর তখনই কোন কিছু বিনিময় হয় যখন একটা আরেকটার পরিপূরক গুন সম্পন্ন হয় ।
কি ছিল সেই নির্দেশ ?
রাসূল (সাঃ) বিদায় হজ্জ শেষে ১ লক্ষ ২০ হাজার (কমবেশি) সাহাবাসহ মদীনার দিকে রওয়ানা হন । গাদীরে খুম নামক জায়গায় পৌছাঁলে উক্ত আয়াত নাযিল হয় ।
এতক্ষণে সাহাবীগণ (রাঃ) বিভিন্ন দিকে যাত্রা শুরু করেন । রাসূল (সাঃ) দূত পাঠিয়ে সকলকে একত্রিত করেন । অতঃপর রাসূল (সাঃ) আল্লাহর নির্দেশ পৌছানোর লক্ষে একত্রিত লোক সম্মুখে ভাষণ দেন ।
আল্লাহর গুণকীর্তন করে রাসূল (সাঃ) মূল বক্তব্যটি পেশ করেন । তিনি সকলকে জিজ্ঞেস করেন , আমি কি মুমিনদের মাওলা নই ?
সকলে বলিল , হ্যা অবশ্যই ।
রাসুল (সাঃ) জিজ্ঞেস করেন , আমি কি মুমিনদের জান-মালের চেয়ে অধিক প্রিয় নই ?
সকলে বলিল , হ্যা অবশ্যই ।
তারপর তিনি বলেন, “মান কুন্তো মওলাহু ফাহাজা আলীয়্যুন মওলা” অর্থাৎ আমি যার মাওলা এই আলী ও তার মাওলা ।
নবীজী (সাঃ) আরও বলেন , আমার পরে সে (আলী) সকল মুমিনদের অভিবাবক ও স্থলাভিষিক্ত ।
অতঃপর উপস্থিত সকলে মাওলা আলীর (আঃ) বেলায়াতের সাক্ষী প্রদান করেন । হযরত আবু বকর , হযরত ওমর এসে মাওলা আলীকে (আঃ) অভিন্দন জানিয়ে বলেন , হ্যা “আলী ইবনে আবু তালিব” ! আজ থেকে তুমি সকল মুমিনের মাওলা হয়ে গেলে ।
তারপর সকলে গন্তব্যের দিকে রওয়ানা হওয়ার মনস্থির করেন ।
ইতিমধ্যে আল্লাহ সূরা মায়েদার ৫নং আয়াত নাজিল করে দিলেন —-
” —- আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ন করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ন করলাম এবং তোমাদের জন্য ধর্ম হিসাবে ইসলামের প্রতি সন্তষ্ট হলাম —– ” ।
সুরা – মায়েদা / ৩ ।
নবুয়তের ধারা শেষ হওয়ার পূর্বেই এর (রিসালাতের) বাহক (সাঃ) কর্তৃক ইমামতকে স্বীকৃতি দিয়ে রিসালাতের উদ্দেশ্য ইমামতের উপর ন্যাস্ত হয় । রিসালাত ইমামতকে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রতিষ্ঠা করে । ইমামত রিসালাতকে আঁকড়ে ধরে পরবর্তী কাজ আঞ্জাম দিয়ে দ্বীনের প্রতিষ্ঠিত পথকে সুসংহত রাখে ।
সমসাময়িক অনেক লোকজন রিসালাতকে যেমন অস্বীকার করেছে তেমনি ইমামতকেও ।
তাই আল্লাহ্ বলেন ,
” —- নিঃসন্দেহে তারা সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল যখন তা তাদের নিকট এসেছিল । সুতরাং অচিরেই তাদের কাছে যেসব ব্যাপারে তারা ঠাট্টা বিদ্রুপ করত তার খবর এসে যাবে —– ” ।
সুরা – আনআম / ৫ ।
প্রিয় পাঠক ,
পরিশেষে মহান আল্লাহর নিকট একটিই প্রার্থনা যে , আল্লাহ কতৃক প্রদত্ত অশেষ করুনা , দয়া ও নেয়ামতের মিষ্টি সুপেয় পবিত্র বার ইমামত ধারার প্রতি সর্বক্ষন যেন প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারি ।
রাসুলের (সাঃ) পবিত্র আহলে বাইত তথা বার ইমামীয়ার (আঃ) আর্দশ বুকে ধারন করে যেন মৃত্যুবরন করতে পারি ।
ইমামে যামানা (আঃফাঃ) এর যহুরকে ত্বরান্বিত করুন ।
ঈলাহী আমীন ।
শেয়ার করুন