শীয়া কাফের , মহা বিশাল কাফের ।

বহুল প্রচারিত বাক্যটি সকলেই আমরা হরহামেশা দেখে থাকি ।
বিশেষ করে ভার্চুয়াল জগতে অত্যন্ত পরিচিত বাক্যটি হচ্ছে —-
“শীয়া কাফের” !

প্রিয় বন্ধুগন !
নত মস্তকে মেনেই নিলাম – বার ইমামীয়া শীয়ারা হচ্ছে সলিড কাফের ।

সুপ্রিয় বন্ধু ,
কিছু সময়ের জন্য সদয় মনযোগ চাই , প্লীজ ।

দেখুন ,
কাফের কথাটির মূল অর্থ হচ্ছে – অস্বীকার , প্রত্যাখ্যান বা Disagree ।

সেই অর্থে “গাদীর এ খুমকে” মনে-প্রানে মেনে নিয়ে যদি —
“বনু সকীফার” অস্বীকারকারী বা কাফের হই ,
তাহলে এই জাতীয় “কাফের শীয়া” হিসেবেই কবরে যেতে চাই ।
ঈলাহী আমিন ।

যাইহোক ,
সুপ্রিয় বন্ধুগন ,
আলাপের মূল বিষয়বস্তু বলছি ।

একটিবার ঠান্ডা মাথায় ভাবুন তো ,
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ওনার রাসুলের (সাঃ) মাধ্যমে কি আদেশ দিলেন !
অর্থাৎ রাসুল (সাঃ) স্বয়ং নিজে ওনার ইন্তেকালের পরে কাঁকে স্থলাভিষিক্ত করলেন বা মানতে বললেন ?

নবুয়তের ধারার সমাপ্তির পর মহান আল্লাহ পবিত্র ইমামতের ধারা চালু করলেন ।

তো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (সাঃ) সেই আদেশ মানতে গিয়ে পৃথিবীর কেউ যদি আপনাকে “শীয়া” বলে অপবাদ দেয় ।

তাহলে দুই কান খুলে শুনে রাখুন –

পবিত্র কোরআন চ্যালেজ্ঞ দিয়ে আপনাকে বলছে যে ,
আপনি সেই পুতঃপবিত্র ব্যক্তিগনকে মেনে নিলেন বা সেই ব্যক্তিগনের অনুসরন এবং আনুগত্য করলেন যাঁরা রুকুরত অবস্থায় যাকাত প্রদান করেন ।

পবিত্র কোরআন আপনাকে আরও জানাচ্ছে যে ,
রুকুরত অবস্থায় যাকাত প্রদানকারী মুমিন বান্দাগনকে কেউ যদি নিজের জন্য অভিভাবক হিসাবে মনে-প্রানে মেনে নেয় তাহলে ঐ ব্যক্তি আল্লাহর দলভুক্ত হয়ে যায় ।
অর্থাৎ আপনি এখন থেকে আল্লাহর দলের অন্তর্ভুক্ত হলেন ।
এবং পবিত্র কোরআন সাক্ষ্য দেয় যে , আল্লাহর দলই বিজয়ী হয় ।

বন্ধুগন !
নিজের চোখেই পবিত্র কোরআনের দুটি আয়াত দেখে নিন —

” — তোমাদের অভিভাবক শুধু আল্লাহ , তাঁর রাসুল এবং সেই বিশ্বাসী যে নামাজ বজায় রাখে এবং যাকাত আদায় করে রুকুরত অবস্থায় ।
কেহ আল্লাহ , তার রাসুল এবং মুমিনগনকে বন্ধুরুপে গ্রহন করিলে আল্লাহর দলই তো বিজয়ী হইবে — “ ।
সুরা – মাইদা / ৫৫ , ৫৬ ।

কান খুলে আরও শুনে রাখুন –
পবিত্র কোরআন চ্যালেজ্ঞ দিয়ে আপনাকে বলছে যে ,
আপনি সেই পুতঃপবিত্র ব্যক্তিগনের সঙ্গী হয়ে গেলেন , যাঁদেরকে আল্লাহ স্বয়ং নিজে “সত্যবাদী” বলে ঘোষনা দিচ্ছেন ।

“—– হে ঈমানদারগন আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হয়ে যাও —-” ।
সুরা – তওবা / ১১৯ ।

কান খুলে আরও শুনে রাখুন –
পবিত্র কোরআন চ্যালেজ্ঞ দিয়ে আপনাকে বলছে যে ,
আপনি সেই পুতঃপবিত্র ব্যক্তিগনকে অনুসরন এবং আনুগত্য করছেন , যাঁদেরকে আল্লাহ স্বয়ং নিজে “উলিল আমর” বলে ঘোষনা দিচ্ছেন ।

“ – আনুগত্য কর আল্লাহ এবং আনুগত্য কর রাসুলকে এবং তাদেরকে যারা তোমাদের মধ্যে কতৃত্ব করার দয়িত্বপ্রাপ্ত (উলিল আমর) —– “ ।
সুরা – নিসা / ৫৯ ।

কান খুলে আরও শুনে রাখুন –
পবিত্র কোরআন চ্যালেজ্ঞ দিয়ে আপনাকে বলছে যে ,
আপনি সেই ব্যক্তিগনকে অনুসরন এবং আনুগত্য করছেন , যাঁদেরকে আল্লাহ স্বয়ং নিজে “পুতঃপবিত্র আহলে বাইত” বলে ঘোষনা দিচ্ছেন ।

“ – নিশ্চয়ই আল্লাহ চান তোমাদের কাছ থেকে সমস্ত অপবিত্রতা দূরে রাখতে , হে আহলে বাইত , এবং তোমাদেরকে পবিত্র করতে পূর্ন পবিত্রকরনের মাধ্যমে – “ ।
সুরা – আহযাব / ৩৩ ।

পরিশেষে আপনাকে বলা হচ্ছে যে , আপনিই সেই মুমিন মুসলমান – আল্লাহর আদেশ মোতাবেক নবীজীর (সাঃ) পবিত্র আহলে বাইতগনকে (আঃ) মনে-প্রানে ভালবাসেন এবং পবিত্র আহলে বাইতগনের (আঃ) ফিকহা মোতাবেক ইসলামের সকল ইবাদত পালন করে থাকেন ।
অর্থাৎ আপনি একজন জাফরী ফিকহার অনুসরনকারী মুমিন ।

“ – বল , আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোন পুরস্কার চাই না , শুধু আমার রক্তজ বংশধরদের প্রতি গভীর ভালবাসা ছাড়া – “ ।
সুরা – শুরা / ২৩ ।

সম্মানীয় বন্ধুগন ,
আপনি আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের (সাঃ) নির্দেশ মোতাবেক মাওলা আলীর (আঃ) শীয়া হয়েছেন বলে পৃথিবীর তাবৎ অজ্ঞ লোক নাহয় আপনাকে তুচ্ছ্য তাচ্ছিল্য বা ঘৃনা করে ।

ওদেরকে ওদের অজ্ঞতার সাগরে আরও ডুবে থাকতে দিন ।
বিন্দুমাত্র ওদের দিকে মনযোগ দিবেন না !

আল্লাহর দোহাই লাগে ,
উপরে উল্লেখিত পবিত্র কোরআনের এই ঘোষনার পরেও কি একটুও হাসবেন না , এখনও কি মন খারাপ বা হীনমন্যতায় ভুগবেন ?

বুকে হাত দিয়ে বলুন তো –
উপরে উল্লেখিত পবিত্র কোরআনের এই ঘোষনার পরে এবারের ঈদের আনন্দটা একটু অন্যরকম হবে না !

সদা আনন্দ-খুশী থাকুন ।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve + sixteen =