শীয়া সম্প্রদায়ের সৃষ্টির ইতিহাস ও শীয়া কথাটির অর্থ কি ।

সালামুন আলাইকুম ।
সুপ্রিয় পাঠক বন্ধুগন ,
অনেকেই এই বিষয়টি সম্বন্ধে বিস্তারিতভাবে জানতে চান যে , শীয়া বিশেষ করে বার ইমামীয়া শীয়া তথা জাফরী মাযহাবের জন্ম ইতিহাস এবং শীয়া কথাটির প্রকৃত বাংলা অর্থ কি ?

প্রথমেই জেনে নেই –
শীয়া বিশেষ করে বার ইমামীয়া শীয়া তথা জাফরী মাযহাবের জন্ম ইতিহাস ।

আমরা তথ্য ও দলীল সহকারে বিশ্বাস করি যে , বার ইমামীয়া শীয়া মাযহাবের জন্ম রাসূলে আকরামের (সাঃ) জীবদ্দশাতে এবং এ পর্যায়ে তাঁর অত্যন্ত পরিস্কার বক্তব্যও রয়েছে ।
এর স্বপক্ষে সুস্পষ্ট দলীল-প্রমান আমাদের হাতে রয়েছে ।

কেউ কেউ না জেনেশুনে অথবা ইচ্ছে করেই এমন ধারনা পোষন করে থাকেন যে , সাফাভি রাজত্বের পর থেকে শীয়াদের উদ্ভব হয়েছে । ইতিপূর্বে তাদের কোন ইতিহাস ছিল না ।
কিন্ত ইসলামের হাদিসগ্রন্থ সমূূহের উপর সামান্য অধ্যয়ন করলেই এ ধারনা পুরোপুরি পাল্টে যাবে ।

“খায়রুল বারিয়্যার” ।

” —- নিশ্চয়ই গ্রন্থধারীদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে , প্রকৃতপক্ষে তারাই সৃষ্টির সেরা — ” ।
সুরা – বাইয়্যিনাহ / ৭ ।

পবিত্র কোরআনে বর্নিত আয়াতের প্রেক্ষিতে বর্নিত হাদিস সমূহে উল্লেখ আছে যে , হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) বর্ননা করেছেন যে , যখন এই আয়াত নাজিল হইল তখন রাসুল (সাঃ) স্বয়ং নিজে হযরত আলীকে (আঃ) উদ্দেশ্য করে বললেন যে , এই আয়াতের প্রধানতম সাক্ষ্য ও প্রমান এবং তোমার শীয়া বা অনুসারী ভক্তবৃন্দগন । কেয়ামতের দিনে মহান আল্লাহ তোমাদের প্রতি রাজী সন্তষ্ট হইবেন এবং তোমারাও মহান আল্লাহর প্রতি রাজী সন্তষ্ট হইবে । এবং তোমাদের শত্রুগন কালো মুখ ও বিশ্রী চেহারা নিয়ে আসিবে ।
সূত্র – তাফসীরে তাবারী , খন্ড-৩০ , পৃ- ১৪৬ / মানাকাবে খাওয়রেজামী , পৃ- ৬৬ / কেফাইয়াতুত তালিব , পৃ- ১১৯ / সাওয়ায়েকা মুহরিকা , পৃ- ৯৬ / দুররূল মানসর , খন্ড-৬ , পৃ- ৩৭৯ (মিশর মুদ্রন) / নুরুল আবসার , পৃ-৭৮ , ১১২ / জাযবায়ে বেলায়েত , পৃ-১৫৬ / মুরাজেয়াত , পৃ-৬২ / ফুসুলল মুহিম্মা , পৃ-১২৩ / শাওয়াহেদুত তানজিল , খন্ড- ২ , পৃ-৩৫৬ / গায়াতুল মোরাম , পৃ-৩২৭ / তাফসীরে ফুরাত , পৃ-২১৯ / পবিত্র কুরআনে আহলে বাইত (আঃ) , পৃ-২৪২ ।

আয়াতে বর্নিত আরবী অংশ অধ্যয়ন করলে আমরা দেখতে পাই যে , মহানবীর (সাঃ) আমলে উনি স্বয়ং নিজেই সর্বপ্রথম আলী ইবনে আবু তালিবের (আঃ) শীয়া বা অনুসারীগনকে “খায়রুল বারিয়্যার” নামে অভিহিত করেন ।
অতএব শীয়া সস্প্রদায়ের জন্ম ইতিহাস ইসলামের ইতিহাসের সাথেই সংযুক্ত । মহানবীর (সাঃ) ইন্তেকালের পরে তা সৃষ্টি হয় নাই ।

বহু সংখ্যক মোফাস্সিরে কোরআন এই আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে লিখেছেন যে – স্বয়ং রাসূল (সাঃ) বলেন যে , এই আয়াতের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে হযরত আলী (আঃ) ও তাঁর শীয়ারা বা অনুসারীবৃন্দগন ।
সুন্নি মাযহাবের বিখ্যাত আলেম আল্লামা সুয়ূতী তাঁর তাফসীর গ্রন্থ “আদ্দুররুল মানসূরে” বর্ণনা করেছেন ।

হযরত ইবনে আসাকির হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে , আমরা রাসুলের (সাঃ) খেদমতে উপস্থিত ছিলাম , এমন সময় হযরত আলী (আঃ) আমাদের দিকে আসলেন এবং রাসূল (সাঃ) তাঁকে দেখে বললেন ,”সেই মহান সত্তার শপথ ! যাঁর হাতের মুঠোয় রয়েছে আমার জীবন ! এই আলী ও তাঁর শীয়ারা কিয়ামতের দিন সফলকাম” ।
এরপর থেকে যখনই আলী (আঃ) রাসূলের সাহাবাদের বৈঠকে উপস্থিত হতেন তাঁরা বলতেন – “খোদার সৃষ্টির মধ্যে সর্বউত্তম সৃষ্টি আগমন করেছেন” ।
সূত্র – আদ্দুররিল মানছুর ৬ষ্ঠ খন্ড , পৃষ্ঠা নং ৩৭৯ ।

অনুরূপ অর্থে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) , আবু বারাযাহ (রাঃ), ইবনে মাদুবিয়্যাহ (রাঃ) ও আতিয়া উরফী (সামান্য পার্থক্য সহ) বর্ণনা করেছেন ।
সূত্র – পয়ামে কোরআন , ৯ম খন্ড, ২৫৯ পৃষ্ঠার পর ।
এভাবে দেখতে পাচ্ছি যে ,“শীয়া” নামটি সে সমস্ত লোকদের জন্যে স্বয়ং রাসূল (সাঃ) চয়ন করেছেন যাঁরা হযরত আলীর (আঃ) সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ছিলেন ।
সুতরাং তাঁদেরকে “শীয়া” নামটি স্বয়ং আল্লাহর রাসূল (সাঃ) দিয়েছেন ।

যারা না জেনেশুনে অথবা শুধুমাত্র মাযহাবগত আক্রোশের বশবর্তী বা ইচ্ছাকৃৃতভাবে বার ইমামীয়া শীয়াদের উপর এমন উদ্ভট অভিযোগ করে থাকেন অথবা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারনা করে থাকেন , তারা আরব কবির এই কথার অন্তভুক্ত হবে —
“যদি সেসব আলেমগন উল্লেখিত হাদিস সমূহ জ্ঞাত না হয়ে থাকে তাহলে তা এক প্রকার মুসিবত ও বিপদ । আর যদি জ্ঞাতসারেই এরুপ বলে থাকেন তাহলেে মুুসিবত ও বিপদ আরও কয়েকগুন বেড়ে যায় । কারন তারা আলেম হওয়ার দাবী করেন । কিন্ত কোথায় কি হাদিস আছে তাই তারা জানেন না ।
হে আল্লাহ ! আমাদের সকলকেই এহেন সাম্প্রদায়িক বিষবাস্প থেকে রক্ষা করুন ,
ঈলাহী আমিন ।

শীয়া মাযহাবের উৎপত্তি খলীফাদের সময়কালেও নয় ।
যদিও আমরা অন্যান্য ইসলামী ফেরকাসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শণ করি । তাদের সাথে এক কাতারে দাঁড়িয়ে জামায়াতের সাথে নামায পড়ি । একই সময়ে ও একই স্থানে হজ্বব্রত পালন করি ও ইসলামের অভিন্ন স্বার্থে সহযোগিতা করি ।
তারপরও বিশ্বাস করি যে , যেহেতু হযরত আলীর (আঃ) অনুসারীদের বা শীয়াদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং রাসূলের (সাঃ) বিশেষ দৃষ্টি ও আনুকূল্য রয়েছে ।
এই কারনেই আমরা এই মতের অনুসরনকে বেছে নিয়েছি ।
খুব দুঃখের সাথে বলতে হয় যে , শীয়া বিরোধী একদল লোক অতি জোর দিয়ে বলেন যে , এই মাযহাবের সাথে আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার একটা যোগসূত্র রয়েছে এবং শীয়ারা তার অনুসারী ।
সে ছিল আসলে একজন ইহুদী ও পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করে ।
এই তথ্যটা একটা অতীব আশ্চর্যজনক কথা ব্যাতীত আর কিছু নয় ।
কেননা , শীয়া মাযহাবের সমস্ত বই-পুস্তক , কিতাব-পত্র অনুসন্ধান করে দেখা যাচ্ছে যে , এ মাযহাবের কারও সাথে ঐ লোকটির বিন্দুমাত্র সম্পর্ক ছিল না ।
বরং শীয়া মাযহাবের সমস্ত ইলমে রিজালের কিতাবসমূহ আব্দুল্লাহ ইবনে সাবাহকে একজন পথভ্রষ্ট-গোমরাহ হিসাবে পরিচয় করিয়েছে ।
আমাদের কোন কোন বর্ণনা মোতাবেক দেখা যায় যে , মুরতাদ হওয়ার কারনে হযরত আলী (আঃ) তাকে হত্যা করার নির্দেশ জারী করেছিলেন ।
এ বিষয় দেখুন – তানকীহুল মাকাল ফী ইলমির রিজাল , আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা শিরোনাম ।

এ ছাড়াও ইতিহাসে আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা নামে কোন লোকের অস্তিত্ব ছিল কি-না , তাই প্রশ্নবোধক !
নির্ভরযোগ্য অভিজ্ঞ গবেষকদের বিশ্বাস হচ্ছে , আসলে এই নামটি বা চরিত্রটি হচ্ছে একটা জ্বলজ্যান্ত মিথ্যা রূপকথা ও ডাঁহা মিথ্যা কল্পকাহিনী । তার অস্তিত্ব বলতে কিছু নেই । এই চরিত্র শতভাগ মিথ্যা এবং কাল্পনিক । শুধুমাত্র শীয়া মাযহাবের বদনাম করার জন্যই মিথ্যা চরিত্রটির সৃষ্টি করা হয়েছে । তাহলে কিভাবে সম্ভব সে শীয়া মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা হবে ?
এই বিষয় দেখুন –
আবদুল্লাহ ইবনে সাবা ও অন্যান্য কল্পকাহিনী
মূল – আল্লামা সাইয়েদ মুরতাযা আসকারী ।
বাংলা অনুবাদ – নূর হোসেন মজিদী ।
সকল বার ইমামীয়া শীয়ারা তাকে শতভাগ মিথ্যা কাল্পনিক পথভ্রষ্ঠ গোমরাহ ব্যক্তি বলেই জানে ।

প্রিয় পাঠক ,
‘শীয়া’ আরবী কথাটির আভিধানিক বাংলা অর্থ ।
এই কথাটিকে আমরা তিনভাবে পর্যালোচনা করব ,
প্রথমে আমরা এই কথাটির আভিধানিক অর্থ পর্যালোচনা করব । অতঃপর পবিত্র কোরআনে এ কথাটির প্রয়োগ ও সবশেষে যেসব হাদিস সমূহে সত্যিকার শীয়াদের পরিচিত করিয়েছেন তা উল্লেখ করব ।
“শীয়া” কথাটির আভিধানিক অর্থ হল অনুসারী বা অনুসরক ।
পবিত্র কোরআনে “শীয়া” কথাটির প্রয়োগ – চারটি স্থানে ব্যবহ্রত হয়েছে ,
পবিত্র কোরআন মজিদে এসেছে —

” — ইন্না মিন শীয়াতিহি লা ইব্রাহিমা — ” ।
সুরা – সাফফাত / আয়াত ৮৩ ।
অর্থাৎ – ইব্রাহীম ছিলেন তার একজন শীয়া বা অনুসারী ।
এই আয়াতে হযরত ইব্রাহীমকে (আঃ) একজন শীয়া বলে ঘোষনা দেওয়া হয়েছে ।
উল্লেখ্য যে , উক্ত আয়াতে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কোন ব্যক্তি শীয়া সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ । কিন্ত হযরত ইব্রাহীমকে (আঃ) পরিস্কারভাবে শীয়া বলে ঘোষনা দেওয়া হয়েছে ।

পবিত্র কোরআনে আরেকটি আয়াতে “শীয়া” কথাটি এসেছে ।
“ —- তিনি (মূসা নবী) শহরে প্রবেশ করলেন , যখন তার অধিবাসীরা ছিল বেখবর , তথায় তিনি দুই ব্যক্তিকে লড়াইরত দেখলেন । এদের একজন ছিল তাঁর *শীয়া* এবং অন্যজন তাঁর শত্রু দলের । অতঃপর *শীয়া* সে তাঁর শত্রু দলের লোকটির বিরুদ্ধে তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করল । তখন মূসা তাকে ঘুষি মারলেন এবং এতেই তার মৃত্যু হয়ে গেল । মূসা বললেন , এটা শয়তানের কাজ , নিশ্চয় সে প্রকাশ্য শত্রু, বিভ্রান্তকারী —– ।“
সূরা — আল ক্বাসাস / ১৫ ।
এই আয়াতে ঐ লোকটিকে হযরত মুসার (আঃ) একজন শীয়া বা অনুসারী বলা হয়েছে ।
উপসংহার ,
উপরোক্ত আয়াত সমূহে “শীয়া” কথাটি নবী-রাসুলদের অনুসারী হিসেবে ব্যবহ্রত হয়েছে ।

“শীয়া” – আরবী কথাটির বাংলা অর্থ হচ্ছে – অনুসরনকারী ।
সে হিসাবে দুনিয়ার প্রতিটি ব্যক্তি একজন শীয়া বা অনুসরনকারী ।
কেউ ভগবানের শীয়া ।
কেউ ইশ্বরের শীয়া ।
কেউ নিজের মনের শীয়া ।
কেউ ঈবলীশের শীয়া ।
কেউ আল্লাহর শীয়া ।
কেউ আল্লাহর রাসুলের (সাঃ) ।
কেউ ইমাম আলীর (আঃ) শীয়া ।
কেউ পুতঃপবিত্র বারজন ইমামগনের (আঃ) শীয়া ।

এবারে সুন্নি সম্প্রদায়ের বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থসমূহ থেকে “শীয়া” সম্পর্কিত এই হাদিসটি দেখে নিন ।

রাসুল (সাঃ) বলেছেন , “সুসংবাদ ! হে আলী , নিশ্চয়ই তুমি এবং তোমার শীয়া বা অনুসারীগন জান্নাতে প্রবেশ করিবে”।
সুত্র – তারিখে দামেস্ক (ইবনে আসাকির,খন্ড-২,পাতা-৪৪২ , হাদিস # ৯৫১ / নুরুল আবসার (শিবলাঞ্জী) ,পাতা-৭১,১০২ / ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাহ,পাতা-৬২ / তাতহিরাতুল খাওয়াস (ইবনে জাওজী আল হানাফী) ,পাতা-১৮ / তাফসীরে ফাতহুল কাদীর(আল শাওকানী),খন্ড-৫,পাতা-৪৭৭ / তাফসীরে রুহুল মায়ানী আলুসী,খন্ড-৩০,পাতা-২০৭ / ফারাইদ সিমতাইন(ইবনে শাব্বাঘ),খন্ড-১,পাতা-১৫৬ / তাফসীরে দুররে মানসুর,খন্ড-৬,পাতা-১২২ / মানাকিব(ইবনে আল মাগাজেলী),পাতা-১১৩ / মুখতাসার তারিখে দামেস্ক,খন্ড-৩,পাতা-১০ / মিয়ান আল ইতিদাল,খন্ড-২,পাতা-৩১৩ / আরজাহুল মাতালেব,পাতা-১২২,১২৩,৮৭৭(উর্দু) / তাফসীরে তাবারী,খন্ড-৩০,পাতা-১৪৭ / ফুসুল আল মাহিম্মা,পাতা-১২২ / কিফায়াতুল তালেব,পাতা ১১৯ / আহমাদ ইবনে হাম্বাল,খন্ড-২,পাতা-৬৫৫ / হুলিয়াতুল আউলিয়া,খন্ড-৪, পাতা – ৩২৯ / তারিখে বাগদাদ,খন্ড-১২,পাতা-২৮৯ / আল তাবরানী মুজাম আল কাবির,খন্ড-১,পাতা-৩১৯ / আল হায়সামী মাজমা আল জাওয়াইদ,খন্ড-১০,পাতা-২১-২২ / ইবনে আসাকীর তারিখে দামেস্ক,খন্ড-৪২,পাতা-৩৩১ / আল হায়সামী আল সাওয়ায়িক আল মুহারিকা,পাতা-২৪৭ / মুয়াদ্দাতুল কুরবা,পাতা-৯২ / তাফসীরে ফাতহুল বায়ান,খন্ড-১০,পাতা-২২৩(নবাব সিদ্দিক হাসান খ ভুপালী,আহলে হাদিস) / তাফসীরে ফাতহে কাদীর,খন্ড-৫,পাতা-৬৪,৬২৪ / সাওয়ারেক আল মুহারেকা( ইবনে হাজার মাকিক),পাতা-৯৬ / শাওয়াহেদুত তাঞ্জিল,খন্ড-২,পাতা-৩৫৬ / মুসনাদে হাম্বাল,খন্ড-৫,পাতা-২৮ / নুজহাত আল মাজালিস,খন্ড-২,পাতা-১৮৩ / মানাকেব(আল খাওয়ারেজমী),খন্ড-৬, পাতা -৬৩ ।
একদা আলী ( আঃ ) ওনার এক সহযোগী “নউফ বোকালি” কে ওনার শীয়াদের সম্পর্কে বললেন , আমার শীয়ারা রাত্রিবেলায় আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকে ও দিনের বেলাতে সিংহ পুরুষের মতো ইসলাম রক্ষার্থে অবস্থান করে ।
আরেকটি হাদিসে শীয়াদেরকে এভাবে পরিচিত করানো হয়েছে যে , আমাদের শীয়ারা চার চক্ষুবিশিষ্ট ।
দুটি চক্ষু অন্যান্য মানুষের মত নাকের উপর এবং বাকি দুটি তাদের অন্তরে অবস্থিত । অর্থাৎ তারা অন্য লোকদের মত বোকা নয় বরং তারা অত্যন্ত চালাক , বুদ্বিমান , জ্ঞানী , যুদ্ব বিদ্যা ও কাজ কর্মে পারদর্শী ।
ষষ্ঠ ইমাম জাফর সাদিক (আঃ) বলেন , আমাদের প্রকৃত শীয়ারা নৈশ ইবাদতে মগ্ন , চালাক ও বুদ্বিমান , গোনাহগার ও ভুলকারিদের জন্য ক্ষমাশীল , অভাবীদের জন্য দানশীল , নিজের সুখে অন্যদেরকেও শরীক করে , যুদ্বের ময়দানে সিংহপুরুষ ।
সুপ্রিয় পাঠক ,
আশাকরি “শীয়া” কথা বা বার ইমামীয়া শীয়া সম্প্রদায় সম্বন্ধে পরিষ্কার ধারনা পেলেন ।
তবে অবাক একটা ব্যাপার না বলে পারছি না ।
পবিত্র কোরআনে কোথাও “সুন্নি” কথা বা “সুন্নি সম্প্রদায়” সম্বন্ধে কিছুই পেলাম না ।
আপনারা যদি কেউ পেয়ে থাকেন , দয়া করে জানাতে ভুলবেন না ।

 

– বেলায়াত সম্পর্কিত আয়াত সমূহের তাফসির –
মূল – আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাজী ।
বাংলা অনুবাদে – সামিউল হক ।
পৃষ্ঠা – ৩৪৯ -৩৫১ ছায়া অবলম্বনে লিখিত ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen + 9 =