শুভ পিতা দিবস এবং পরলোক থেকে বিলম্বপ্রাপ্ত একটি সংবাদ ।

সকলের অবগতির জন্য বলা হচ্ছে যে , সংবাদটির সামান্যতম কোন ভিত্তি নাই । অতএব ভিত্তিহীন সংবাদটি সম্পর্কে অযথা উত্তেজিত বা আনন্দিত হওয়ার কিছুই নাই ।

ভিত্তিহীন ভূয়া সংবাদের শুরু —
এইমাত্র একটা খবর এল পরলোক থেকে এইমর্মে যে , জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থিত যাকুম বৃক্ষের নীচে একজন মা এবং তার পুত্রের সাথে প্রচন্ড কথা কাটাকাটি , চরম মান-অভিমান এবং সেইসাথে কান্নাকাটি চলছে ।
বাদানুবাদ এবং ক্ষোভ দুঃখের পর্ব চলছে হযরত মূয়াবীয়া এবং তার জন্মদাত্রী জননী হযরত হিন্দার সাথে ।
সারা পৃথিবীতে আজ “পিতা দিবস” পালিত হচ্ছে ।
সকল পিতাকে শুভেচ্ছা ।

পিতা দিবস উপলক্ষে জনাব আমীরে মূয়াবীয়ার খুব ইচ্ছে হল যে , তার প্রকৃত জন্মদাতা পিতাকে অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা জানাবে ।
এজন্য সে যাকুম বৃক্ষের ফুল ও পাতা দিয়ে ফুলের একটি তোড়া বানিয়েছে ।
বেচারা মূয়াবীয়া তখন সাংঘাতিক চিন্তায় পড়ে গেলেন এইভেবে যে , পিতা দিবসে উনি ওনার সঠিক কোন পিতাকে অভিনন্দন জানাবেন !
কারন এখন তিনি বিলক্ষন বুঝে গেছেন যে , জনাব আবু সুফিয়ান তার প্রকৃত জন্মদাতা পিতা নন ।

দিশেহারা হয়ে হযরত মূয়াবীয়া তার জন্মদাত্রী মা হিন্দাকে জিজ্ঞাসা করলেন , “ওমা ! তুমিই বল , আজ আমি কোন পিতাকে উইশ করব ?
আমার প্রকৃত ঔরশজাত পিতার নাম কি ?”
হিন্দা খুব দুঃখ ভরা কন্ঠে বলল , “বাবারে ! পরকালের জগতে আর যাহোক মিথ্যা বলার বিন্দুমাত্র সুযোগ নাই । ইহজগতের আমলনামা সকলের গলায় লটকিয়ে দেওয়া হয়েছে । বলতে খারাপ লাগলেও আজ তোকে সত্য কথাই বলছি — সে কি আজকের কথা ! পৃথিবীর জীবনে আমি ছিলাম অত্যন্ত সুন্দরী একটি মেয়ে । আমার পিতা মানে তোর নানা ছিল মক্কার কাফের-মুশরিকদের প্রভাবশালী নেতা । তোর নানার ছিল ব্যাপক অর্থবিত্ত , সম্পদ আর ক্ষমতা । সেই সুবাদে আমি খুবই আমোদ প্রমোদের জীবন ভোগ করতাম । এখনও মনে পড়ে ঐ আমলে পুরো মক্কা নগরীর সর্ববৃহৎ পতিতাপল্লীর আমিই ছিলাম একচ্ছত্র মালিক । নদীর পাড়ের খেয়া ঘাটের মত কত পুরুষ এল আর গেল ! আমি নিজেই তো টের পাইনি !
এখন তোকে কি করে বলি , কে তোর প্রকৃত ঔরশজাত পিতা ?
এই প্রশ্নের সঠিক জবাব একমাত্র আল্লাহ দিতে পারবেন । কেননা তখন তো ডিএনএ পদ্বতি আবিস্কার হয় নাই —– !”

পাঠক ,
আলাপের এই পর্যায় এসে মুকেশ আম্বানীর জিও ফোনের ফোরজি কানেকশন বিছিন্ন হয়ে যাওয়াতে পরলোক থেকে সংবাদ প্রেরন আচমকা বন্ধ হয়ে যাওয়াতে আন্তরিকভাবে দুঃখিত ।
কথা দিলাম – পরবর্তীতে কানেকশন পাওয়া মাত্রই পুনরায় তাজা খবর নিয়ে হাজির হব ।
আপাঃতত বিদায় ।

এবারে জেনে নিন হযরত মূয়াবীয়ার প্রকৃত জন্মদাতা প্রসঙ্গে ।
বাস্তব সত্য ইতিহাস এটাই যে , হযরত মুয়াবীয়ার সঠিক কোন পিতৃপরিচয় নেই । হযরত মুয়াবীয়ার আসল পিতা নির্ণয় করাটা সহজ নয় , যেহেতু তার মাতা বহু ঘাটের জল পান করেছিলেন । হযরত মূয়াবীয়া কোন পুরুষের রাসায়ানিক বিক্রীয়ায় হিন্দার গর্ভে এসেছিল খোদ হিন্দাও তা জানতেন না ।
মুয়াবীয়া ৬০৬ খৃস্টাব্দে উমাইয়া গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন ।
তার কথিত পিতা আবু সুফিয়ান ।
আর গর্ভধারিনী মাতা হিন্দা ।
হযরত মুয়াবীয়ার জন্মদাত্রী মাতা হিন্দা প্রথম জীবনে একটি পতিতালয় (বেশ্যালয়) পরিচালনা করতেন এবং তিনি সে পতিতালয়ের বিশেষ দায়িত্বে ছিলেন ।
পতিতালয়ের একজন নিয়মিত খদ্দের ফাকেহা নামক এক ব্যক্তিকে হিন্দাকে বিবাহ করেন । বিবাহের কয়েক দিনের মধ্যেই ফাকেহা জানতে পারলেন যে , হিন্দা গর্ভবতী । পেটে অবৈধ সন্তান থাকার কারনে এই নষ্টা নারীকে সে ঘৃণা ভরে ত্যাগ করলেন ।
অবশেষে পেটে অবৈধ সন্তান থাকার পরেও পতিতা হিন্দাকে হযরত আবু সুফিয়ান বিবাহ করেন । উল্লেখ্য যে, হিন্দা খুবই সুন্দরী ও আবেদনময়ী নারী ছিলেন এবং তৎকালীন আরবের সমাজে অনেক প্রভাব প্রতিপত্তি ব্যক্তির সাথে হিন্দার খুব ভাল সম্পর্ক ছিল । যারজন্য সেই সমাজে হিন্দার বিশেষ প্রভাব প্রতিপত্তি ছিল । যার কারনে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও হযরত আবু সুফিয়ান হিন্দার লোভ সংবরণ করতে সক্ষম হননি ।
যাইহোক , পরে হিন্দা সেই অবৈধ সন্তানটি প্রসব করেন , যা ছিল একটি পুত্র সন্তান এবং যার নাম রাখা হয় মুয়াবীয়া ।

ইতিহাস থেকে যা জানা যায় ।
হযরত মূয়াবীয়ার জম্মদাতা হিসেবে সম্ভাব্য চারজন পিতার নাম লোকমুখে শুনা যায়, তারা হলেন ।
(১) – আবি ইবনে মুসাফির,
(২) – ওমর বিন ওলিদ,
(৩) – আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব, এবং
(৪) – সাবাহ (এক ইথিওপিয়ান কৃষ্ণাঙ্গ)
সূত্র – কিতাব শারহে নাহজুল বালাগা, ভিলয়ম ১০,পৃষ্ঠা ১৩০ / কিতাব রাবিউল আবরার ভলিয়ম ৩, পৃষ্ঠা ৫৫১ ।

প্রিয় পাঠক ,
রাসুলের (সাঃ) চাচার কলিজা ভক্ষনকারী কুখ্যাত একজন পতিতার গর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া পিতৃপরিচয়হীন একজন সন্তান কি করে মুসলিম উম্মাহর খলীফা এবং কাতেবে ওহী এবং রাঃআনহু মার্কা সাহাবী হয় ?
সকলের উদ্দেশ্য প্রশ্নটা রেখে আজকের মত বিদায় ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × four =