“হোসেইন আমার থেকে এবং আমি হোসেইন থেকে” ।
মহানবী (সাঃ) বলেন , “হোসেইন আমার থেকে এবং আমি হোসেইন থেকে এবং যে হোসেইনকে ভালবাসে মহান আল্লাহ তাকে ভালবাসেন” ।
সূত্র – সহীহ আত তিরমিজি , হাদিস নং – ৩৭৭৫ / সুনানে ইবনে মাজাহ , হাদিস নং – ১৪৪ ।
প্রিয় পাঠক ,
অনেকের মনেই এই প্রশ্ন জাগতেই পারে যে , ইমাম হোসেন (আঃ) সম্পর্কে মহানবীর (সাঃ) এই কথার অর্থ কি ?
” —- হোসেইন আমার থেকে এবং আমি হোসেইন থেকে —- !”
কারন ইমাম হোসেইন (আঃ) অবশ্যই রাসুলের বংশধর হিসেবে বিশ্বনবী (সাঃ) থেকে হতেই পারেন । কিন্ত তাইবলে রাসূল (সাঃ) স্বয়ং নিজে ইমাম হোসেইন (আঃ) থেকে হবেন কিভাবে ?
খুবই সংক্ষিপ্ত উত্তরে বলা যায় যে , কারবালা প্রান্তরে ইমাম হোসেনের (আঃ) বিশাল আত্মত্যাগ এবং এক মহাবিপ্লবের কারনে রাসুলের (সাঃ) রেখে যাওয়া প্রকৃত ইসলাম বিকৃতি ও বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ।
হযরত আদম (আঃ) থেকে শুরু কর শেষনবী মুহাম্মাদ (সাঃ) পর্যন্ত – একলক্ষ চব্বিশ হাজার নবী-রাসুলগন পৃথিবীতে যে ইসলাম ধর্ম নিয়ে এসেছিলেন সেই ইসলাম ধর্ম কেয়ামত পর্যন্ত অবিকৃত এবং অক্ষত অবস্থায় টিকে আছে এবং থাকবে – শুধুমাত্র ইমাম হোসেইনের (আঃ) জবাবহীন আত্মত্যাগ এবং সুমহান কুরবানীর বিনিময়ের জন্য ।
সরাসরি বলাই যে , কারবালা প্রান্তরে ইমাম হোসেইন (আঃ) যদি এইরকম কুরবানী না দিতেন তাহলে একলক্ষ চব্বিশ হাজার নবী-রাসুলগনের পুরো পরিশ্রম এবং মিশন শতভাগ ব্যর্থ হয়ে যেত ।
মহান আল্লাহ নিজেও ইমাম হোসেইনের (আঃ) জবাবহীন আত্মত্যাগ এবং সুমহান কুরবানীর কথা পবিত্র কোরআনে স্বর্নাক্ষরে লিপিবদ্ব করে রেখেছেন ।
” —– এরপর আমরা তাকে মুক্ত করেছিলাম এক মহান কুরবানীর বিনিময় —- ” ।
সুরা – সাফফাত / ১০৭ ।
হাজার বছর ধরে এমনকি কেয়ামত পর্যন্ত রাসুলের (সাঃ) রেখে যাওয়া প্রকৃত ইসলাম ধর্ম টিকে আছে এবং অক্ষত অবস্থায় টিকে থাকবে একমাত্র ইমাম হোসেনের (আঃ) মহান কুরবানীর বিনিময় ।
কারবালা প্রান্তরে সেদিন ইমাম হোসেন (আঃ) যদি মহান কুরবানী না দিতেন তাহলে সারা দুনিয়াতে এখন “মূয়াবীয়া-ঈয়াযীদী ইসলামে” পরিপূর্ন হয়ে যেত ।
সেই অর্থেই মহানবী (সাঃ) নিজেকে তাঁর নাতির থেকে বলে মন্তব্য করেছেন বলে মনে করা হয় ।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − 13 =